বাউফলে ডিএনসি কর্মকর্তা পরিচয়ে মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও মাদক দিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের কবিরকাঠী গ্রামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেনের ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মারধর, ভাঙচুর , নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার লুটপাট ও গাঁজা দিয়ে নাবিন সাজ্জাল (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেনের ছেলে মো. খোকন সাজ্জাল। অভিযোগের ফটোকপি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,গত শনিবার (২ এপ্রিল) ভোরে খোকন সাজ্জালের ছেলে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী নাবিন সাজ্জাল (১৭) ঢাকা থেকে এসে বড় ভাই নাইম সাজ্জালের (২২) সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলেন। সকাল নয়টার দিকে ১২-১৪ জনের অজ্ঞাত ব্যক্তিদের একটি দল ঘরের পিছনের দুটি দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে নাবিন ও নাইমকে হাতকড়া পড়িয়ে মারধর করে। ওই সময় তাঁরা (অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দল) ঘরের আলমারি ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করে এবং আলমারির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নাইমকে ছেড়ে দিলেও নাবিনকে নিয়ে যান।
নাবিনের বাবা খোকন সাজ্জাল বলেন, পরে থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন বরিশাল বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন বাদী হয়ে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করেছেন। তিনি দাবি করেন,এটি একটি ষড়যন্ত্র। একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তাঁর ছেলেকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
বাউফল থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে নাবিনের শোয়ার খাটের নিচ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও গাঁজা বিক্রির ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাক্ষী করা হয়েছে মো. সুমন (৩০) ও শ্যামল মিস্ত্রী (৩৫) নামে দুই ব্যক্তিকে।
এ বিষয়ে স্বাক্ষী সুমন বলেন,‘মারধর ও ভাঙচুরের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তাঁর সামনেই নাবিন ও নাঈমকে মারধর করা হয়েছে। পরে একটি কাগজে তাঁর (সুমন) স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে ওই ঘর থেকে কোনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়নি। আর টাকা উদ্ধার করা হয়েছে আলমারি ও শুকেজ থেকে। আমাদের কাছে বলা হয়েছিল ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’ স্বাক্ষী শ্যামল মিস্ত্রী বলেন,‘বরিশাল বন্দর থানায় তাঁর বাড়ি। তিনি কবিরকাঠী বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে গাঁজা ওই ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়নি। টাকা উদ্ধার করা হয়েছে আলমারি ও শুকেজ থেকে।’
বরিশাল বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন বলেন,মামলার এজাহারের কথাই তাঁর কথা। তাঁদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর মুঠোফোনে কল করলে তিনি কেটে দেন। ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি ধরেননি।
এসএম
