‘বাঙালিদের বাঙালি না বলে বৃহৎ জনগোষ্ঠী বললে কেমন লাগবে’

‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, বাঙালিদের ‘বাঙালি’ না বলে ‘বৃহৎ জনগোষ্ঠী’ বললে কেমন লাগবে?
তিনি বলেন, আদিবাসীদের নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ডেইলি স্টার ভবনে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।
সন্তু লারমা বলেন, আদিবাসীদের নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে দিন। অথচ আমরা দেখলাম সংবিধানপরিপন্থী উল্লেখ করে আদিবাসী শব্দটিকে গণমাধ্যম, টক শো ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবহার না করার নির্দেশ জারি করেছে সরকার। এই একটি শব্দ নিয়ে নানাভাবে তার প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এ সরকারকে কি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী, দুর্নীতিমুক্ত বলে আখ্যায়িত করা যাবে? তিনি বলেন, তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার সাম্প্রদায়িক, অগণতান্ত্রিক, প্রগতিবিরোধী, ধনী-গরিবের বৈষম্যের স্বীকৃতি দেয় এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বিভক্ত সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আদিবাসীদের প্রশাসনিকভাবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত করানো হচ্ছে। সন্তু লারমা বলেন, আদিবাসীদের পরিচিতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। আমি আমার পরিচয় দিতে চাই। কী নামে পরিচিত হব, সেটা আমার মৌলিক অধিকার। সরকার তো সে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২-এর সংবিধানে বলা আছে, বাংলাদেশে যারা বাস করবে, তারা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হবে। সেখানেই আদিবাসীদের পরিচয় চিহ্নিত হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে নানা সংশোধনের মাধ্যমে সংখ্যালঘু বহু জাতির আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি নানা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের বাঙালি না বলে যদি আমরা বৃহৎ জনগোষ্ঠী বলে ডাকি, তখন কেমন লাগবে তাদের কাছে?’
এএজে