ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে লিগ্যাল নোটিশ আবাসন সংকটে বরিশালের চার সরকারি কলেজ ব্যাংকের টাকা চুরি মামলায় গণঅধিকার পরিষদ নেতা গ্রেফতার বরিশালে ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল বিনষ্ট, ৪ জনকে জরিমানা বরিশালে সেপ্টেম্বরে ৪৭১ অপরাধ সংঘটিত, ধর্ষণের ঘটনা কমলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া বার্তা ঝালকাঠিতে বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ মঠবাড়িয়ায় ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে ৪ কেজি উদ্ধার, আটক ১  শহরে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে হলে নির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে অটোরিকশা চালাতে হবে নেহা বোরার পর ছাড়া পেলেন কেজরিওয়াল-মমতাও সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই
  • গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে লিগ্যাল নোটিশ

    গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে লিগ্যাল নোটিশ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের ৯০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্য ও প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা নিশ্চিত করা, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গরুর মাংসের খুচরা বাজারমূল্য প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংসের বাণিজ্যিক আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    রোববার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশটি পাঠান।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়।

    আইনি নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই মুসলিম এবং তাদের অন্যতম প্রধান ও পছন্দের খাদ্য উপাদান হলো গরুর মাংস। অথচ বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকার মতো চরম চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এই কৃত্রিম ও আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো গরুর মাংস কেনা প্রায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রোটিন ঘাটতি এবং পুষ্টিহীনতা তৈরি করছে।

    নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে বলা হয়, কোনো দেশ যে পণ্য কম খরচে ও সহজে তৈরি করতে পারে, সেটিতেই তার মনোযোগ দেওয়া উচিত আর যেসব পণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খরচ অতিরিক্ত বেশি, তা অন্য দেশ থেকে আমদানি করাই সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক কৌশল। যেমন উন্নত বিশ্বের দেশগুলো (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ) কোনো ধরনের দান-খয়রাত বা আবেগের বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি ডলারের তৈরি পোশাক (আরএমজি) আমদানি করে না। তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে পোশাক উৎপাদন করতে গেলে শ্রমিকের আকাশচুম্বী মজুরি, আধুনিক প্রযুক্তির অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ-ব্যয় এবং কারখানার পরিচালন ব্যয় এত বেশি হয় যে সেই দামে সাধারণ ভোক্তা পোশাক কিনতে পারবে না। ফলে তারা নিজেদের দেশে পোশাক তৈরির বিপুল খরচ না বাড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক আমদানি করে নিজেদের অর্থনীতি ও ভোক্তাদের লাভবান করছে।

    নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের পুষ্টির স্তর ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধন করা রাষ্ট্রের পবিত্র ও প্রাথমিক দায়িত্ব। এছাড়া সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘রাইট টু লাইফ’ বা জীবনের অধিকার কেবল কোনোমতে বেঁচে থাকা বোঝায় না, বরং মর্যাদাপূর্ণ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস খাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়ে একটি ক্ষুদ্র খামারি ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী সিন্ডিকেটকে একচেটিয়া মুনাফার সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।

    আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফাইড হালাল ফ্রোজেন বা চাইল্ড মাংস আমদানির সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শুল্ক যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। 
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ