ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

Motobad news

বরিশালে নির্মিত হবে পূর্ণাঙ্গ বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট

বরিশালে নির্মিত হবে পূর্ণাঙ্গ বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট

অবশেষে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে । ১০টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ), আটটি হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ১০টি কেবিন এবং নারী ও পুরুষের জন্য ৩৬টি করে বেড তৈরি হবে। এছাড়া এই বার্ন ইউনিটে দুটি রেগুলার অপারেশন থিয়েটার এবং একটি ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার থাকবে।

 

এছাড়া সিলেট, রংপুর, রাজশাহী এবং ফরিদপুরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে সরকার ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের অর্থায়নে এই বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটগুলো স্থাপন করা হবে।  নতুন প্রকল্পের জন্য মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। এসব হাসপাতালের প্রত্যেকটিতে স্থাপন করা হবে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট।   জানা গেছে, বাংলাদেশ এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (এসএফডি) যৌথ উদ্যোগে এই হাসপাতালগুলোতে বার্ন ইউনিট নির্মাণ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৫৬ কোটি টাকা।

 

এটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাত হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক চিঠিতে প্রকল্পটির দ্রুত অনুমোদন ও কাজ দ্রুত শুরু করতে একনেককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।  এতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (এসএফডি) অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পটির জন্য বাংলাদেশ সরকার ও এসএফডি এর মধ্যে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ১১২.৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়েলের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত ঋণচুক্তিটির গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর। এতে আরও বলা হয়, ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও প্রকল্পটির ডিপিপি এখনো অনুমোদন না হওয়ায় গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে একনেক উইংয়ে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সময়ে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলতো ৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট। এসময় আগুনে দগ্ধ রোগী আসলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হত । দগ্ধ রোগীদের তেমন দেয়া হতো না কোন চিকিৎসা সেবা । এরপর  গত বছরের ২৮ এপ্রিল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃত্যর পরে  বন্ধ হয়ে যায় বার্ন ইউনিটটি। তবে গতকাল বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের সিন্ধান্ত হওয়ায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে দগ্ধ রোগীদের এমটি জানিয়েছে রোগির স্বজনরা ।


এমবি