ভারতের কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না পাকিস্তান

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তবে এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই এখন আর আগের মতো জমে না। সাম্প্রতিক সময়ে আইসিরি ইভেন্টগুলোতে নেই সেই চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একপাক্ষিক আধিপত্যে নতুন করে রেকর্ড বই লিখছে টিম ইন্ডিয়া। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও ভারতের কাছে কোনো পাত্তা পেলো না পাকিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। জবাব দিতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ছিলো নানা নাটকীয়তা। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ডাক দেয় পাকিস্তান। পরে বিসিবি, পিসিবি ও আইসিসির বৈঠকের পর ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারে অভিষেক শার্মাকে সাজঘরে ফেরালেও থামানো যায়নি ইশান কিশানকে। একাই কচুকাটা করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের। খেলেছেন ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই ১৭৫ রানের পুঁজি পায় ভারত।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই শাহিবজাদা ফারহানের উইকেট হারায় পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। পরের ওভারে সাইম আইয়ুব ও সালমান আলী আঘার উইকেট তুলে নেন জসপ্রিত বুমরাহ। সাইম ২ বলে ৬ ও সালমান ৪ বলে ৪ রান করে আউট হন।
১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের হাল ধরেন বাবর আজম ও উসমান খান। পঞ্চম ওভারে দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন বাবর। দলীয় ৩৪ রানের মাথায় অক্ষর প্যাটেলের বলে সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৭ বলে ৫ রান করা এই ব্যাটার।
পাওয়ার প্লেতে ৩৮ রান তুলতেই টপ-অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারায় পাকিস্তান। পঞ্চম উইকেট জুটিতে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন উসমান খান ও শাদাব খান। দুজনে মিলে খেলতে থাকেন দেখেশুনে। ৩৫ বলে করেন ৩৯ রানের জুটি। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় অক্ষর প্যাটেলকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে বল মিস করেন উসমান। বল ইশান কিশানের গ্লাভসে জমা হতেই স্টাম্পড আউট করে ফেরান ৩৪ বলে ৪৪ রান করা এই ব্যাটারকে।
এরপর দ্রুতই ফেরেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। ৫ বলে ৪ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে শিভম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফাহিম আশরাফও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৪ বলে ১০ রান করে বরুণ চক্রবর্তীর বলে রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। পরের বলেই আবরার আহমেদকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন এই স্পিনার।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। ইনিংসের প্রথম ওভার করতে আসেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘা। পাঁচ বলে তিনি খরচ করেন মাত্র এক রান। শেষ বলে তিনি তুলে নেন অভিষেক শর্মাকে। কিছুটা নিচু হয়ে আসা বল বড় শট খেলতে গিয়ে লং অফে শাহিন আফ্রিদির হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিলক ভার্মাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ইশান কিশান। ব্যাট হাতে একাই পাকিস্তানের বোলারদের একাই শাসন করতে থাকেন এই বাঁহাতি। ১০ বাউন্ডারি ও ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৪০ বলে ৭৭ রান করা এই ওপেনারকে থামান সাইম আইয়ুব। এরপর তিলক ভার্মার সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দুজনে মিলে যোগ করেন ৩৪ বলে ৩৮ রান।
১৫তম ওভারে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবান জাগান সাইম আইয়ুব। ওভারের দ্বিতীয় বলে তিলক ভার্মাকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন সাইম। পরের বলে ক্রিজে এসেই বড় শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি বাবর আজম। এর পরের বলটাও করলেন দুর্দান্ত। ব্যাটসম্যান পরাস্ত হলেন, স্টাম্পের সামান্য উপর দিয়ে বল উইকেটকিপারের গ্লাভসে। আবেদন করলেন, আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় নিলেন রিভিউ, তবে ক্যাচ কিংবা স্টাম্পড; কোনো আউটই ছিলেন না ব্যাটার।
১২৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর সূর্যকুমার যাদব ও শিভম দুবে খেলতে থাকেন দেখেশুনে। দুজনের জুটি থেকে আসে ২৬ বলে ৩৩ রান। ২৯ বলে ৩২ রান করে সূর্যকুমার আউট হলে ভাঙে এই জুটি।
ইনিংসের শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদি খরচ করেন ১৬ রান, বিনিময়ে তুলে নেন অক্ষর প্যাটেলের উইকেট। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন ১৭ বলে ২৭ রান করা শিভম দুবে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকে হারিয়ে ১৭৫ রানের পুঁজি পায় ভারত। পাকিস্তানের হয়ে সাইম আইয়ুব নেন ৩ উইকেট। এছাড়া সালমান, উসমান তারিক ও শাহিন নেন একটি করে উইকেট।
এইচকেআর