বরিশালে ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ জমি দখলে নিতে জিলা স্কুল শিক্ষকের তাণ্ডব

বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় ব্যাংকের কাছে মর্গেজকৃত একটি জমিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জিলা স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে নারীসহ ৪জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কাতয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক হেলাল নিজে উপস্থিত থেকে এই হামলার নেতৃত্ব দেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এসময় তিনি নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন।
ভুক্তভোগী মো. আল আমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আবু বকর সিদ্দিক হেলালসহ অজ্ঞাত ৪০/৫০ জন বহিরাগত ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নামধারী নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ঐ জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা আল আমিনদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরে থাকা মালামাল লুটপাট করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দখল চেষ্টার সময় বাধা দিতে গেলে বাসিন্দাদের হুমকি-ধমকি প্রদান করা হয়। এসময় আবু বকর সিদ্দিক হেলাল দম্ভোক্তি করে নিজেকে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ঐ সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আবু বকর সিদ্দিক হেলাল নামে তার কোনো বন্ধু নেই এবং এই শিক্ষককে তিনি চেনেন না। মূলত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ করার লক্ষ্যেই শিক্ষক হেলাল এই মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানাগেছে শিক্ষক হেলাল ব্যাংকের কাছে মরগেজ রাখা ওই জমির ১৩ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশ ক্রয় করেন। কিন্তু ওই জমিটি ১৯৯৩ সাল থেকে উত্তরা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ (মর্গেজ) রয়েছে। ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করে এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে শিক্ষক হেলাল জমিটি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন। তিনি সম্প্রতি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে পেশিশক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলের চেষ্টার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হেলাল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার নাম ব্যবহার করে স্থানীয় থানায় তদবির করার চেষ্টা করেন।
তবে এসব বিষয়ে শিক্ষক হেলাল জানান, তার ক্রয়কৃত জমি বুঝে নিতে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘর সরিয়েছেন। কোন জবর দখলের ঘটনা হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগী মো. আল আমিন জানান, অন্যায়ভাবে তাদের বসতঘর ভেঙে দখলের চেষ্টা চালান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক হেলাল। এসময় তাকে ও তার স্ত্রীসহ সন্তানদের ওপর হামলাও চালানো হয়। এবং ঘরে থাকা নগদ চল্লিশ হাজার লুটে নেয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছ। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এইচকেআর