বরিশালে সরকারি দাম তোয়াক্কা না করেই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি

বরিশাল নগরীর পলিটেকনিক এলাকার বাসিন্দা ফারজানা ববি। দুই সন্তান আর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তার সংসার। বাসা ভাড়াই তার একমাত্র ভরসা। ইদানীং তার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের বাড়তি দাম।
তার ভাষ্য, বাসায় রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই। এতে বাড়তি খরচ গুণতে হয় তাকে। তার এই বাড়তি খরচ আরও বেড়ে গেছে এলপিজির লাগামহীন দামে।
ফারজানা ববি বলেন, বাসায় ছোট বাচ্চা, ওদের জন্য হুটহাট খাবার রেডি করতে হয়। এতে গ্যাস একটু বেশি যায়। এ জন্য সবসময় বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার রাখি, যাতে যে কোনো সময় অন্তত খাবার রান্না করা যায়। এখন দেখছি এটাও বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, সিলিন্ডার সরকারি দামে কিনতে পারি না। এই মাসেও ১৬৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। তার ওপর গ্যাসের জন্য বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। মধ্যবিত্তের সংসারে আমরা এক-দুইশ টাকাও হিসাব করে খরচ করি।
শুধু ফারজানা ববি নন, নগরীতে পরিবার নিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন এমন অনেকেই এলপিজির বাড়তি দামে বেশ বিড়ম্বনায় আছেন। বাসাবাড়িতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেশি। এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেই দামের তোয়াক্কা করে না কেউ। কখনো কৃত্রিম সংকট আবার কখনো অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন।
১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে বাজারে সেই দামে কোথাও মিলছে না সিলিন্ডার। ভোক্তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ
বিক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি টাকা গুনেই এলপিজি কিনতে হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চাপে।
এদিকে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভ্যাট কমিয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কিছুটা কমলেও বাজারে তার প্রতিফলন নেই। খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতারা পরিবহন খরচ, ডিলার কমিশন ও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন।
নগরের রূপাতলী এলাকার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন বলেন, সিলিন্ডার আছে, দাম ১৬০০ টাকা। দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো কিনতে পারি না। ফেসবুকের দামের হিসাব কইরা লাভ নাই। অন্য জায়গায় কম দামে পাইলে সেখান থেকে নেন।
সাগরদী এলাকার বাসিন্দা মো. মিনির হোসেন বলেন, ১৭শ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছি। কোথাও কম দামে পাইলাম না। শুধু শুনি যে সরকার দাম কমাইছে। বাজারে কিনতে গেলে তো পাই না।
চৌমাথা এলাকার এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের খরচ হয় বেশি। অনেকের বাসায় নিয়ে ডেলিভারি দিয়ে আসতে হয়। পরিবহন খরচ আছে। কেনা পড়ে বেশি টাকায়। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করব কীভাবে! এজন্য সরকারি দামে বিক্রি করতে পারি না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। গত ২ ফেব্রুয়ারি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে সংস্থাটি।
এইচকেআর