বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নির্মাণাধীন টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পটি নানা সমস্যার কারণে কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। পূর্বে প্রকল্পটি নিয়ে মামলাসহ কিছু জটিলতার বিষয় ছিল। তবে বর্তমানে সেই সমস্যাগুলো অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে এবং নির্মাণকাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে এসেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ ) সকাল পৌঁণে ১২টায় ভাণ্ডারিয়া-চরখালী বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ‘টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প এলাকা’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের শরীফুল আলম বলেন, প্রকল্পের পাইলিং কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই ইনস্টিটিউটটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোনালী আঁশ খ্যাত পাট আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। এটি আমাদের জীবনের সাথে একবারে মিশে আছে। একসময় পাট শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ খাত কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১সালে নিষিদ্ধ করে ছিল। তার পর থেকে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটের ব্যবহার কমে গেছে। তাই বর্তমান সরকার পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে মানুষের মাঝে জনমত গঠন করে, চট ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বন্ধ পাটকলগুলো চালু করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়টি সরকারের ভাবনায় রয়েছে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সিকদার জাকির হোসেন বাচ্চু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ(মলাদ) জোমাদ্দার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার এবং সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, উপজেলার ২নম্বর নদমূলা ইউনিয়নের ভাণ্ডারিয়া- চরখালী বাইপাস সড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ শিয়ালকাঠী স্থানে ১(এক) একর জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে একটি চারতলা একাডেমিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভবনটির মোট প্লিন্থ এরিয়া প্রায় ১৪ হাজার ৯৯০ বর্গফুট। প্রকল্পটির প্রত্যাশী সংস্থা বস্ত্র অধিদপ্তর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ। নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে এবং একই দিনে কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডেলটা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধরেণ করা হয়েছে।
এইচকেআর