থামানো যাচ্ছে না জাটকা নিধন, ইলিশের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় জাটকা রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা চললেও থামছে না ইলিশ পোনা নিধন। প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের মধ্যে অনেকটা ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় পরিণত হয়েছে অভিযানের পরিস্থিতি। স্থানীয় প্রভাবশালী ও অভিযান সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চলছে জাটকা নিধন ও বেচাকেনা। জাটকা নিধন বন্ধ না হলে ইলিশ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
জেলে ও স্থানীয়রা জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই রাতের আঁধারে সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে জাটকা নিধন। ধরা পড়া এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে নদীপাড়ের হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায়। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ও অভিযান সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে বন্ধ হচ্ছে না জাটকা নিধন। প্রকাশ্য ও গোপনে চলছে বেচাকেনা।
পুরান বাজার এলাকার জেলে দুলাল শেখ বলেন, সরকারের অভিযান আমরা মানি। কিন্তু আমরা অনেকে সহযোগিতা পাইনি। যারা পেয়েছে তাদেরও এই ৩০/৩৫ কেজি চাল দিয়ে কিছুই হয় না। অনেক অসহায় জেলে তালিকার বাইরে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি। অনেকে বাধ্য হয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন।
হাইমচরের জেলে রফিক বলেন, অভিযানে আমরা মাছ ধরি না। কিন্তু মৌসুমি জেলে ও বহিরাগতরা এসে নদীতে মাছ ধরছে। নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ ছাড়া তারা কীভাবে মাছ ধরে- প্রশ্ন জেলেদের।
ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, আজকের জাটকাই আগামী দিনের ইলিশ। তাই নির্বিচারে যদি ছোট ইলিশ বা জাটকা নিধন করা হয় তাহলে বড় ইলিশের সামগ্রিক উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা আশঙ্কার বিষয়। পহেলা মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অভয়াশ্রম এলাকায় যেকোনও মূল্যে- প্রশিক্ষণ, সচেতনতা সৃষ্টি, আইন প্রয়োগ করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জাটকা রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হতে পারে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের সম্পদের উন্নয়নে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী অঞ্চলে ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অভিযানে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে অপর্যাপ্ত চাল সহায়তা দেওয়া হলেও সাড়ে পাঁচ হাজার নিবন্ধিত জেলে কোনও ধরনের সরকারি সহায়তা পায়নি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা রক্ষায় টাস্কফোর্স ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালালেও অসাধু জেলেরা ফাঁকি দিয়ে নদীতে জাল ফেলছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় গত এক মাসে ১৪০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযান সফল করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
এদিকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাটকা নিধন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে শুরু করে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধানও রয়েছে।
এইচকেআর