ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

Motobad news
টানা ৬ দিনের বর্ষণে 

মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে দিন

মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে দিন
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ভোলার মনপুরায় টানা ৬ দিনের বর্ষণে খাল-বিল, বাড়ি-ঘর পানিতে একাকার হয়ে গেছে। সর্বত্রই শুধু পানি আর পানি। এতে উপকূলের ৫টি ইউনিয়নে আনুমানিক ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

এদিকে খেটেখাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ওই সমস্ত পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। অনেকে চিড়া ও মুড়ি খেয়ে জীবন ধারণ করলেও বেশিরভাগ মানুষ আছে অর্ধাহারে-অনাহারে। 

অপরদিকে দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ খোঁজ না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে অঝোরধারায় বৃষ্টি পড়ছিল। সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে মনপুরা উপকূলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। 

টানা বৃষ্টির কারণে কাজ করতে না পারায় দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। আয় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। খাদ্যসংকটে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি চললেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে গেছে। 

উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। 

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমান গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও পানি জমে রয়েছে। এছাড়াও মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, আন্দিড়পার এলাকায় একই অবস্থা।

হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান, এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র বলেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট অকেজো হয়ে আছে এবং বিভিন্ন খাল স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে। দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

দুর্গত এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেয়নি। দুর্ভোগ লাগবের জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ শুকনো খাবার নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তারা।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন