এবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

গত এক দশকের মধ্যে এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী ফরম ফিলাপ না করে পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষকরা বিষয়টিকে আগামীর প্রস্তুতি হিসেবে দেখলেও অভিভাবকদের রয়েছে ভিন্ন মত।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ৭৫৩ জন। অথচ শুধু এ বছরেই সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছাড়িয়েছে। গত বছর যেখানে ৬৭ হাজার ১১৪ জন এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করেছিল সেখানে এবারে করেছে ৬১ হাজার ৪৮১ জন। তারপরও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই হিসাবকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের এই কম হারের কারণ অনুসন্ধানে শিগগিরই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বৈঠকে বসবে বলে জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের চেয়ে এবার ৫ হাজার ৬৩৩ জন বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ থেকে বিরত রয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে অনুপস্থিতির হার এ বছর সবচেয়ে বেশি। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নকলের কোনো সুযোগ না থাকায় এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর আধুনিক প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিটি কক্ষে। কঠোরভাবে তা মনিটরিংও করা হচ্ছে। ফলে প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় অনেকেই অংশ নেয়নি এইচএসসি পরীক্ষায়।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, এসএসসি থেকেই পাসের হারের ওপর নির্ভর করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এসএসসিতে কম পাসের কারণে এইচএসসিতে পরিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল ইসলামিয়া কলেজেন প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। কোনো ব্যত্যয় দেখলে তাৎক্ষণিক তা সমাধান করা হচ্ছে। শিক্ষকরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন। নকলের কোনো সুযোগই নেই। এ কারণে আমরা ইতিবাচক ফলাফল দেখছি।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. আরিফ হোসেন বলেন, গতবারের চেয়ে এ বছর আমাদের কলেজে ফরম ফিলাপের সংখ্যা কম। কারণ অনুসন্ধানে আমরা অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে টিম পাঠিয়ে পেয়েছি মূল তথ্য।
বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, শিক্ষার মান আগে যেভাবে নষ্ট হয়েছে, এ সরকার তা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত হয়েছে যে, লেখাপড়া না করে পরীক্ষার হলে যাওয়া যাবে না। এ কারণেই ওরা ফরম ফিলাপ করেনি। শিক্ষার্থীরা বলেছে, সরকারের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী বছর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে ওরা পরীক্ষার হলে আসবে।
বরিশাল ইসলামিয়া কলেজ ও সিটি কলেজে আগে পরীক্ষার সময়টাতে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করত সেখানে এই দুটি কেন্দ্রেই এবার নীরবতা বিরাজ করছে। পরীক্ষার হলে ঘাড় ফেরানোর কারো কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বলছেন, পরীক্ষার্থীরা এবারে কঠিন পরীক্ষা গ্রহণের বার্তা আগেভাগেই পেয়ে গেছে বিধায় পরীক্ষা দেওয়া থেকে দূরে থাকছে। তাদের মতে, আগামীর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যই অনেক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এইচকেআর