ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

Motobad news

ঝালকাঠিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, উচ্চ ঝুঁকিতে ৭ এলাকা

ঝালকাঠিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, উচ্চ ঝুঁকিতে ৭ এলাকা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ঝালকাঠিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেশি থাকায় জেলা শহরের সাতটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ জেলা শহরের কাটপট্টি, বান্দা ঘাট, বাঁশপট্টি, কলাবাগান, স্টেশন রোড, সিটি পার্ক ও ফকির বাড়ি এলাকাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ২৬ জন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।

ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান ও ফকির বাড়ি এলাকার দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, শক সিনড্রোম, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াসহ প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি শহরের কলাবাগান এলাকার এক ডেঙ্গু রোগীর বড় ভাই আবদুল জলিল বলেন, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে ফার্মেমি থেকে ওষুধ খেয়েছিল। পরে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। আমাদের বাসার কাছেই এক শিশু ডেঙ্গুতে মারা গেছে। এজন্য ভয় ও আতংক আরও বেশি।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, চলতি মৌসুমে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। কোনোভাবেই জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। তিনি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যে কোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতাল সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় পৃথক ওয়ার্ড, প্রয়োজনীয় শয্যা ও চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচারণা, লার্ভা ধ্বংস এবং রোগী শনাক্তে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিনি জ্বর হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ভেতর ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, মশারি ব্যবহার, পূর্ণ হাতা পোশাক পরিধান এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন