ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু বরিশাল সদর ‍উপজেল‍ার চরকাউয়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা  বরিশ‍াল নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবক আহত অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক বেলাল বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • নাচে-গানে কারাম উৎসব উদযাপন করছে ওঁরাও সম্প্রদায়

    নাচে-গানে কারাম উৎসব উদযাপন করছে ওঁরাও সম্প্রদায়
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


    নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে কারাম উৎসব উদযাপন করছে ওঁড়াও সম্প্রদায়। নিজ ঐতিহ্য অনুযায়ী পূজা-আর্চনা শেষে করে, সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদের ভিন্ন রকম নৃত্যে উদযাপিত হচ্ছে উৎসবটি।

    বর্ষা শেষে আসে শরৎকাল। খাল-বিল ও নদীনালায় থাকে পূর্ণতা। চোখ জুড়ানো প্রকৃতিতে আসে তারুণ্য। ঝলমলে রোদে খাল-বিলে হাসে শাপলা-শালুক। ঠিক সেই ভাদ্র মাসে আসে ওঁরাও সম্প্রদায়ের অন্যতম বার্ষিক উৎসব কারাম। যা একটি বৃক্ষ পূজার উৎসব।


    সৃষ্টিকর্তার প্রতি এই নাচ-গান উৎসর্গ করার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দরেও কারাম উৎসব উদযাপন করছে সম্প্রদায়টি। উৎসব উপভোগ করতে ভীড় করে আশপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ। সকল ধর্মের মানুষকেই এই উৎসব উপভোগ করতে দেখা যায়।

    অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কথা হয় রানদাজা ওঁড়াওয়ের সাথে। অনেক উচ্ছ্বাসের সাথে তিনি বর্ণনা দেন এই উৎসব পালনের রীতি। তিনি জানান, এখানে উপোসের মধ্য দিয়ে কারাম পূজা শুরু করেন ওঁরাও নর-নারীরা। তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপোস থাকে। সন্ধ্যার পরে মাদল, ঢোল, করতাল ও ঝুমকির বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকা থেকে কারামগাছের (খিল কদম) ডাল তুলে আনা হয়।

    এরপর তারা একটি পূজার বেদি নির্মাণ করেন। সূর্যের আলো পশ্চিমে হেলে গেলে সেই কারামগাছের ডালটি পূজার বেদিতে রোপণ করা হয়। পুরোহিত উৎসবের আলোকে ধর্মীয় কাহিনি শোনান। সেই সঙ্গে চলে কাহিনির অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা শেষ হলে বেদির চারধারে ঘুরে ঘুরে যুবক-যুবতীরা নাচতে থাকেন।


    এদিকে পুরোহিতের ধর্মীয় কাহিনি পাঠ শেষ হওয়ার পর উপোস থাকা মেয়েরা পরস্পরকে খাবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপোস ভেঙে ফেলেন। এর পরই বিভিন্ন বাড়ি থেকে পাওয়া চাল, ডাল ও টাকা দিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়স্বজনদের। শেষে স্থানীয় নদীতে কারামের ডালটি বিসর্জনের মাধ্যমে কারাম উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।


    সরকারি সহায়তা ও উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা থাকলে এই ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবটি ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন জাতীয় আদীবাসি পরিষদের উপদেষ্টা ইমরান হোসেন। এই উৎসব আয়োজনের মধ্যদিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তথা দেশের আগামী প্রজন্মের কাছে ওঁড়াও সম্প্রদায়কে উপস্থাপন করতে চান তিনি।


    এসএম
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ