ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান রাষ্ট্রপতির পুলিশের ২৭০১ কনস্টেবল পদ খালি, নিয়োগ দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার দুটিসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হলেন যাঁরা  সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে না এলে পড়তে হবে শাস্তির মুখে শিগগির শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড বিতরণ: তথ্যমন্ত্রী নির্দোষদের হয়রানি নয়, অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা পেতেই হবে: চিফ প্রসিকিউটর বরিশালে বিএনপি নেতা ‘অপহরণ’, আ'লীগ নেতা, সাবেক পুলিশ কমিশনার ও ডিসির বিরুদ্ধে মামলা মোহনায় ভেসে এলো ২২ কেজির কোরাল, ১৯ হাজারে বিক্রি ঝালকাঠিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ক্যাবের মানববন্ধন
  • মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

     মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ‘ঢাকা থেকে বরিশালে প্রায়ই আওয়া লাগে। মালামালের ট্রিপ থাহে, অনেক সময় শাক-সবজিও টানি। তয় এসব মাল তো রাইতের বেলায়ই আনা লাগে। রাইতে গাড়ি চালাইতে যে কি সমস্যা হেইয়া যে না দেখবে হে বোঝবে না। কতক্ষুণ পরপর সিগন্যাল পুলিশের, আর টাহা চায়।


    আমার লইগ্গা বিষয়টা নতুন না, আমি যেদিন-ই রাইতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ক্রস কইরা বরিশালের দিকে আইতে থাহি হেই সময়ই হইতেই পুলিশরে টাহা দেওয়া শুরু করি। খুচরা টাহা লইয়া লই পুলিশের লইগ্গা। বিশ্বাস করবেন না রাস্তায় পাঁচ টাহাও ঘুস দিছি পুলিশরে।’

    কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক মাইদুল ইসলাম। শুধু মাইদুল-ই নয়, দিনে-রাতে মহাসড়কে ট্রাক, পিকআপ, রেন্ট-এ কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের এভাবেই চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভও রয়েছে সবার মধ্যে। পুলিশের এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা ধর্মঘট করলেও লাভ হয়নি কিছুই। বরঞ্চ বেড়েছে চাঁদার অঙ্ক।

    ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর এলাকায় কথা হয় পিকআপ চালক শহিদুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় যে পুলিশ সরাসরি টাকা নেয় বিষয়টা কিন্তু তেমনও না। অনেক জায়গাতেই তাদের লোক থাকে। সেই লোকদের মাধ্যমে টাকা নেওয়ায়। চেকপোস্টের নামে সিগন্যাল দেয় পুলিশ, কিন্তু টাকা নেয় সিভিলে থাকা লোকজন। আমরা ঝামেলা এড়াতেই এই টাকা দেই। ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দেই বিভিন্ন সিগন্যালে। কিছু করার নেই। না দিলে মামলা দেয়ার ঝামেলা করে।’ বরিশালের গৌরনদী বাসিন্দা ট্রাক মালিক জগলুল হায়দার বলেন, ‘মূলত ভাঙ্গাটা ক্রস করার পর চাঁদাবাজি শুরু হয়। নাম কয়েকটি সার্ভিসের বাস, ব্যক্তিগত আর মোটরসাইকেল বাদে সব ধরনের যানবাহন থামানো হয়। টাকা না দিয়ে কাউকেই ছাড়া হয় না। ভাঙ্গার পর থেকে বরিশাল পর্যন্ত আসতে কম করে হলেও ৬/৭ জায়গায় এমনটা হয়রানির শিকার হতে হয়। একটি ট্রাক ভাঙ্গা থেকে বরিশালে আসতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয় পুলিশকে।’

    ট্রাক চালকের সহকারী রনজিৎ বলেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশালে আসার পথে প্রথমে সিগন্যাল পড়ে রূপসী বাংলা কমিউনিটি সেন্টারের একটু পরে। সেখানে টাকা দিতে হয় পুলিশকে। এরপর সিকদার বাড়ির মসজিদের আগে, চুমুরদীর আগে, মুকসুদপুর, দিগনগর, টেকেরহাট স্কুলের সামনে, রাজৈর বাসস্ট্যান্ডের আগে, মস্তফাপুর ও পাথুইরার পাড় পর্যন্ত চাঁদাবাজির যন্ত্রণার মধ্যে গাড়ি চালানো লাগে। এই সব জায়গায় খয়রাতির (ভিক্ষুুক) মতো টাকা চায়। তবে ভূরঘাটায় ঢোকার পর তেমন কোনো ঝামেলা হয় না। মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। আমি অন্য গাড়ি দিয়া টাকা নিতে দেখছি উজিরপুরের ইচলাদি টোল ঘরের আগে বইসা। আর নথুল্লাবাদে কিছু লোকজন পুলিশের নির্দেশে টাকা নেয়।

    কৃষিপণ্য নিয়ে শনিবার রাতে বরিশালে আসা সাতক্ষীরার ট্রাক ড্রাইভার নিয়ামত মিয়া বলেন, ‘এরা চেকপোস্টের নামে চাঁদাবাজির পয়েন্টগুলোও বসায় মোক্ষম স্থানে। অধিকাংশ চেকপোস্ট বসানো হয় স্পিড ব্রেকারের কাছে। যেখানে গাড়িগুলোকে বাধ্য হয়েই গতি কমাতে হয়। আর এ সুযোগে চলে পুলিশের চাঁদাবাজি।’ বরিশালের এক ট্রাক চালক বলেন, ‘জেলায় জেলায় চলার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটা নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। বিনিময়ে মেলে মাসিক পাস। এক জেলায় একটি পাস দিয়ে যতবার প্রয়োজন আসা যাওয়া করা যায়। পরের মাসে আবার নতুন করে পাস কার্ড নিতে হয়। বরিশালসহ দক্ষিণের প্রায় সব জেলাতেই চালু আছে এই পদ্ধতি। আমাদেরও বিষয়টি সয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও যখন পথে পথে চেকপোস্ট বসিয়ে টাকা তোলা হয় তখন আর সহ্য হয় না। মহাসড়ক এলাকায় থাকা প্রায় সব থানার পুলিশই চেকপোস্ট বসিয়ে টাকা আদায় করে। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতো রয়েছেই।’

    বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা বলেন, ‘পথে পথে পুলিশ চাঁদাবাজি করে। চালকদের হয়রানি করে। টাকা না দিলে মামলা দেয়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। এইসব কারণে আমরা ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতিতেও গিয়েছিলাম। হাজার হাজার টাকা যদি পুলিশই চাঁদা নেয়, তাহলে একজন ট্রাক শ্রমিক নিজের বাসায় কি নিয়ে যাবে আর কি খাবে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

    বরিশাল জেলা কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, ‘সড়ক মহাসড়কে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে ট্রাকের ভাড়া বাড়ে। এভাবে চাঁদা আদায় করা না হলে আরও কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহণ করতে পারতাম। সেক্ষেত্রে বাজারেও সব পণ্যের দাম কমত। চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে বর্তমানে বহাল থাকা ভাড়া আরও বাড়াতে হবে।’ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বিলাল হোসাইন বলেন, ‘মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কোনো চাঁদাবাজি নেই। কড়া নির্দেশনা রয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য এমনটা করলে, প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে আমাদের অংশ হচ্ছে ভূরঘাটা থেকে নতুন হাট পর্যন্ত। এই অংশের মধ্যেই ইচলাদী, গৌরনদী এবং ভূরঘাটায় জেলা পুলিশ চেকপোস্ট বসায়। কিন্তু ট্রাক চালকরা মনে করে হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, হাইওয়ে পুলিশ মামলা দিচ্ছে। আমরা মূলতঃ থ্রি হুইলার ছাড়া এ মুহূর্তে কোনো যানবাহনেই মামলা দিচ্ছি না। আসলে কিছুটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে। জেলা পুলিশের হাইওয়েতে কতটুকু কাজ রয়েছে সেটা নিয়ে কথা রয়েছে। মহাসড়কে নিরাপত্তার কাজ হাইওয়ে পুলিশের। আমাদের কোনো সদস্য চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হওয়ার খবর মিললে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ বিষয়টি নিয়ে আলাপ করার জন্য বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আকতারুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।’


    এইচেকআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ