ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার ফর্মার ক্রিকেটার্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল 
  • হাসপাতালেই থাকবেন খালেদা জিয়া

    হাসপাতালেই থাকবেন খালেদা জিয়া
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নন-কোভিড ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আপাতত হাসপাতালেই থাকবেন বিএনপি নেত্রী। সব পরীক্ষা শেষে ফল নিয়ে চিকিৎসকদের পর্যালোচনার পর তাকে বাসায় নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

    বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা বাসায় চলছিল, সেই চিকিৎসাসহ সেখানে আরও কিছু নতুন ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ উনি এখন স্ট্যাবল।

    জাহিদ হোসেন বলেন, আজকে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। বোর্ডে এভারকেয়ার হাসপাতালের ৭ সদস্য ছাড়াও ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, আমি এবং অধ্যাপক মো. আল মামুনও রয়েছেন। এই মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার।

    তিনি জানান, এই ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এ পর্যন্ত তার যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে সেগুলোর রিভিউ করেছেন। পরবর্তীতে ওনাকে তারা পরীক্ষা করে আরও কিছু পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন।

    তিনি বলেন, এই বোর্ডের সুপারিশ মোতাবেক পরীক্ষাগুলো আজকে অথবা কালকে হবে। সেসব পরীক্ষাগুলো রিভিউ করে খালেদা জিয়ার সার্বিক চিকিৎসার প্ল্যানিং করা হবে।

    অধ্যাপক জাহিদ বলেন, দেশবাসীসহ দলের নেতা-কর্মীদের কাছে আমি ওনার জন্য দোয়া করার কথা বলছি। আমরা খুবই আশাবাদী। ইনশা আল্লাহ ম্যাডাম খুব শিগগিরই ওনার বাসায় ফিরে যাবেন।

    গত মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত রাতে তার সিটি স্ক্যান (চেস্ট), ইসিজি, ইকো, হৃদরোগসহ নানা পরীক্ষা করা হয়েছে।

    কোভিড ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ গত ১৫ এপ্রিল ম্যাডামের সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল সেখানে আমরা রিপোর্ট দেখে বলেছিলাম ফুসফুসে ওনার মিনিমাম ইনভলবমেন্ট আছে। মঙ্গলবার চেস্টের যে সিটি স্ক্যান হয়েছে সেখানে বিন্দুমাত্র ইনভলবমেন্ট নেই। কাজেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এটা ভালো দিক।

    তিনি বলেন, ওনার হৃদ্‌যন্ত্রেও কোনো ধরনের কার্ডিও সমস্যা নেই। কালকে ডাক্তার সাহেবরা যে পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়েছেন সেই রিপোর্টে নেই। খালেদা জিয়া নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

    তিনি আরো বলেন, ওনার কোনো করোনা উপসর্গ নেই। আন্তর্জাতিক চিকিৎসার নিয়মই আছে দুই সপ্তাহের পরে রোগীর কোনো সিম্পটম না থাকে তাহলে করোনা টেস্ট আর করানোরই প্রয়োজন নেই। তখন ধরে নিতে হবে ওনার কাছ থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।

    খালেদা জিয়া কবে বাসায় ফিরবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাসায় ফেরার বিষয়টা প্রেডিক্ট করাটা খুব টাফ। ওনার পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলে বোর্ড রিভিউ করবেন। তারপরে আমরা আশা করতে পারি খুব সহসাই ওনার বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

    খালেদা জিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ আর্থাটাইটিজ, ডায়াবেটিক, চোখের সমস্যায় ভুগছেন।

    জাহিদ বলেন, আপনারা তো জানেন যে, ওনার অন্য অসুখ রয়েছে, অর্থাৎ রেউমেটেড আর্থরাইটিস, অ্যাপিলেট ডিভিশনের যে সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেডিকেল বোর্ডের যে সুপারিশ ছিল- সিভিয়ার এসিটেন্স। সেই অসুখ তো ওনার আছেই। সেই রোগের চিকিৎসার জন্য তার আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন, আধুনিক কেন্দ্রের প্রয়োজন। অর্থাৎ সি নিডস মডার্ন ট্রিটমেন্ট ইন এ ডেভেলপ সেন্টার। এই সুপারিশটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বোর্ড করেছিল। সেটা যদি আমাদের করতে হয়- পরিবারের সদস্যরা অনেক দিন আগে সরকারের কাছে দরখাস্ত করেছেন- ওনাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া উচিত সুচিকিৎসার জন্য।

    সংবাদ সম্মেলন ডা. মোহাম্মদ আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

    গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হয়েছিল কিন্তু ফলাফল পজিটিভ আসে।

    'ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন খালেদা জিয়াসহ চারজন করোনা পজিটিভ।


    টিএইচএ/
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ