ওমিক্রন সতর্কতা: ৩ বিভাগে আইসিইউ শয্যা ৮২

ঢাকা: দেশে এ পর্যন্ত ২১ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কিছুদিন ধরে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকা ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা এবং আইসিইউ শয্যা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে ভাবতে হচ্ছে। তবে বিভাগীয় শহরগুলোতে রোগী শনাক্তের হার এখনও কম। ঢাকার বাইরের ৩ বিভাগের হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে ফাঁকা রয়েছে ৭৯টি আইসিইউ শয্যা।
বরিশাল: বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাঁচতলা এক্সটেনশন ভবনে গড়ে তোলা বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে ৫০০ করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। সেখানে করোনায় আক্রান্ত ৩০০ রোগীর শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি আইসিইউ এবং ২৭০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনটি ৩০০ শয্যার বিশেষায়িত করোনা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। ওমিক্রন ব্যাপক আকার ধারণ করলে সেখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এ জন্য ২৭০টি সাধারণ শয্যা এবং ৩০টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। এই হাসপাতালে কমপক্ষে ৫০০ করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
শনিবার পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে ২৭০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ৬টিতে চিকিৎসাধীন আছেন ৬ রোগী। যার মধ্যে দুজন করোনা পজিটিভ। ৩০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে দুটিতে রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
গত বছর মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ৪৪২ জন। যার মধ্যে ২ হাজার ৩৫৮ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ। ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ হাজার ৯৯০ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৪৪৭ জন। যার মধ্যে ৪২৮ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ।
এদিকে, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি রয়েছে আইসিইউ শয্যা।
চট্টগ্রাম: গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। শনিবার (৮ জানুয়ারি) রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭৬ জন। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৯৬। কিছুদিনের মধ্যে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়াবে বলছেন চিকিৎসকরা।
নগরীর আন্দরকিল্লা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ওমিক্রন মোকাবিলায় চট্টগ্রামে আমরা প্রস্তুত আছি। নন-কোভিড শয্যাগুলোকে এখন কোভিডে রূপান্তর করা হচ্ছে। চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য নানা ধরনের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে তাদের।
হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কোভিড রোগীর শয্যা আছে ১৫০টি। পাশাপাশি আইসিইউ শয্যা আছে ১৮টি। সব ফাঁকা। এইচডিইউ শয্যা আছে ৬টি, সেগুলোও ফাঁকা। বর্তমানে হাসপাতালে রোগী নেই।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) করোনা রোগীদের জন্য রয়েছে ৩০০ শয্যা। এখানে আইসিইউ শয্যা আছে ১০টি। এর মধ্যে কোভিড রোগী ভর্তির মতো আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত আছে আটটি। সব ফাঁকা রয়েছে।
চট্টগ্রামে ওমিক্রন পরীক্ষার কিট প্রসঙ্গে সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০টি কিট আছে। সেখানে নিজস্ব উদ্যোগে কিটগুলো তারা বিদেশ থেকে এনেছে। সরকারিভাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিট এখনও চট্টগ্রামের আরটি পিসিআর ল্যাবে আনা হয়নি। তবে পিসিআর ল্যাবগুলোতে যেকোনো ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হবে। ওমিক্রন না ডেল্টা তা নিশ্চিত হতে জিনোম সিকোয়েন্স করতে হবে। এতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ওমিক্রন মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে এক মাস আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরেও ৪টি আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরেও ওমিক্রন মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি নগরীর বেসরকারি হাসপাতালেও শুরু হয়েছে কোভিড রোগীর চিকিৎসার প্রস্তুতি। নগরীর জিইসি মোড় এলাকার বেসরকারি ‘মেডিক্যাল সেন্টার’ হাসপাতালে ৪৪টি কোভিড শয্যা আছে। এর মধ্যে ৭টি আইসিইউ শয্যা আছে। নগরীর আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালে ২৭টি আইসিইউ ও এইচডিইউসহ প্রায় ২০০ করোনা রোগী ভর্তির শয্যা আছে।
মেহেদিবাগ এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ শয্যা আছে। করোনার সাধারণ রোগীদের জন্য ১৫টি শয্যা আছে। সেখানে আইসিইউ শয্যার পাশাপাশি এইচডিইউ ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দেয়ার ব্যবস্থা আছে।
রংপুর: বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের আট জেলায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১ হাজার ৪১টি শয্যা রয়েছে। এর বেশিরভাগই জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে। রংপুর ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ১০০ শয্যা রয়েছে। এই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ৮টি। পাশাপাশি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১৬টি আইসিইউ শয্যা। পুরো বিভাগে মোট ২৪টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।
এছাড়া, বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২০টি আইসিইউ শয্যা। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি করোনা ইউনিট থাকলেও আইসিইউ শয্যা নেই। এখানে করোনা রোগীদের জন্য ৪০টি শয্যা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর কেরোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে একজন আইসিইউতে রয়েছেন। অপরদিকে, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২ জন রোগী। তাদের কেউ আইসিইউতে নেই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী এখনও শনাক্ত হয়নি। তবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। ২৩টি আইসিইউ শয্যা ফাঁকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ওমিক্রম মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল ছাড়াও জেলার সব সদর হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এইচকেআর