ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • ইটভাটায় পুড়ছে রঙিন শৈশব!

    ইটভাটায় পুড়ছে রঙিন শৈশব!
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


    যে বয়সে হাতে বই-খাতা কাঁধে স্কুলব্যাগ থাকার কথা, সে বয়সেই শক্ত হাতে হাল ধরেছে সংসারের। সারাদিন খেটে, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রোজগার ১৬০ টাকা। এই টাকা থেকেও আবার ২০/৩০ টাকা যাচ্ছে সর্দারদের পকেটে। তবুও অভিযোগ না করে দিন শেষে আয়ের পুরো টাকা তুলে দেয় পরিবারের হাতে।

    এমন দৃশ্যই দেখা যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে। বেশির ভাগ ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে আশপাশের গ্রামের শিশুরা। মৌসুমজুড়ে চলে শিশুশ্রমের মহাজজ্ঞ। কাঠ-কয়লা আর ধুলোবালিতে চাপা পড়ছে এসব শিশুর রঙিন ভব্যিষৎ, আগুনে পুড়ছে শৈশব।

    আমতলী উপজেলায় ১০টি ইটভাটা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে ৯-১৫ বছরের শিশুরা। কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরে ভাটায় এসে কাজ শুরু করেছে শিশুরা। এদের কেউ কাঁচা ইট রোদে শুকাতে দিচ্ছে, ইট তৈরি করছে, কেউ কেউ আবার ভ্যানে করে ইট টেনে চুল্লিতে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও মাটি বহন, ভাঙা ইট আলাদা করাসহ সব কাজেই নিয়োজিত আছে তারা।

    উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের তালুকদার ব্রিকস, কুকুয়া ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন ব্রিকস, নুরজামাল ব্রিকস, মধু প্যাদার ভাটা ও সদর ইউনিয়নের সোবহান কাজীর ভাটাসহ বেশ কয়েকটি ভাটায় শিশুশ্রম আইনের তোয়াক্কা না করেই শিশুদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। 

    কর্মরত শিশুরা জানায়, কেউ এসেছে মা-বাবার সঙ্গে, কেউ এসেছে অন্যের দেখাদেখি। পরিবারের অসচ্ছলতা ও বাড়তি আয়ের জন্যই এসব কাজ করছে তারা। তারা সবাই দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করছে। তবে এমন ভারী কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নানা দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। আহত বা অসুস্থ হলে তাদের নেই কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা, খোঁজ নেয় না ভাটার মালিকরা।

    সোবাহান কাজীর ভাটায় কর্মরত শিশু কামরুল (৯) জানায়, মাদরাসায় কেবল ভর্তি হয়েছিলাম, এরই মধ্যে করোনা শুরু হয়। অনেকদিন ধরে মাদরাসা বন্ধ। খালুর সাথে এই ভাটায় এসেছি। এখানে আমি কাঁচা ইট ভ্যানে করে চুলায় নিয়ে যায়। ১ হাজার ইট টানলে ১৬০ টাকা পাই। এখান থেকে ১০/২০ টাকা সর্দারকে দিতে হয়। বাড়িতে মা আছে, বাবা অনেক আগেই অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। যে টাকা ইনকাম করি তা দিয়ে আমার আর মায়ের ভালোভাবেই চলে যায়।

    আনোয়ার ব্রিকসের আরেক শিশুশ্রমিক অলিউল্লাহ (১২) জানায়, বাবা গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়েছিল। তাকে ডাক্তার দেখাতে অনেক ঋণে পড়তে হয় আমাদের। মা বলেছে, সকল ধার-দেনা পরিশোধ হলে আমাকে আর ভাটায় কাজ করতে হবে না, আমি তখন আবার স্কুলে যাব। এ ভাটায় আমি ইট শুকানোর কাজ করি।

    এসব ইটভাটার মালিকরা শ্রমিক সর্দারদের ওপর দোষ চাপিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। শ্রমিকদের বিষয়টা সর্দাররা হ্যান্ডেল করে। তাছাড়া এসব গরিব শিশুরা কাজ করে কিছু টাকা ইনকাম করে। এখানে দোষের কিছুই দেখছি না।

    অবহেলিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন দুর্বার’র সভাপতি জালাল আহমেদ বলেন, এসব ইটভাটায় বছরের বড় একটা সময়জুড়ে চলে শিশু শ্রমের মহাযজ্ঞ। আগুনে প্রতিনিয়ত পুড়ছে হাজারও শিশুর ভবিষ্যৎ। ভাটার মালিকরা কম মজুরিতে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়ার লোভে শিশুদেরই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়াচ্ছেন। দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে ত্বক ও নখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, এজমা, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ভাটায় শিশুদের দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগই নেই। শিশুশ্রমে কঠোর আইন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।


    এসএম
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ