কৌশলে ফাঁকা শ্রেণি কক্ষে নিয়ে কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির করল প্রভাষক!

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঐ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষা ও অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বুধবার অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রে দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রবেশ করে প্রভাষক রাকিবুল ইসলাম। পরীক্ষা শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে কৌশলে একটি ফাঁকা শ্রেণি কক্ষে নিয়ে যায় এবং কু-প্রস্তাব দেয় ঐ প্রভাষক।
ছাত্রী বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং ঐ রুম হতে বেরিয়ে আসতে গেলে প্রভাষক রাকিবুল ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকে। এ সময় ঐ ছাত্রী চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করলে রাকিবুল ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাটি আশপাশে থাকা অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা টের পেয়ে যায়। আস্তে আস্তে ঘটনাটি পুরো কলেজ পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে অভিযুক্ত প্রভাষক রাকিবুলের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী। সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষকে জানান এবং অভিযুক্ত প্রভাষকের শাস্তি দাবি করেন।
এরপর কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী প্রভাষক রাকিবুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন এবং তাকে সকল পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
এদিকে একজন শিক্ষককের ছাত্রীর সাথে এমন কর্মকান্ডে প্রতিবাদে অভিযুক্ত প্রভাষক রাকিবুল ইসলামের শাস্তি দাবি করেছেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। প্রিন্সিপাল স্যারই সব ব্যবস্থা নেবেন। তবে আমি ঐ ই লম্পট শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত ও ইসলামিয়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাকিবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী বলেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি প্রভাষক রাকিবুল ইসলামকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনজুরুল কাদের এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঐ ছাত্রীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করেছি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুষ্টিয়ায় আসলে কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএম