নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বরিশাল বিমানবন্দর, মোকাবেলায় তিন সুপারিশ

বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে বরিশাল বিমানবন্দর। একদিকে নদীর ভাঙন, অন্যদিকে নেই সীমানা প্রাচীর। আবার ক্ষয়ে গেছে রানওয়ের বেশ কিছু জায়গা। এতে করে বিমান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে এয়ারপোর্টে। ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও।
সেই সাথে ঝুঁকিমুক্ত বিমানবন্দর গড়ে তুলতে তিন দফা সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কে।
এর আগে চলতি বছরের গত ৩ জানুয়ারি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন রহমতপুরে বরিশাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকার। এসময় বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক ও বেবিচক এর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আরিফুজ্জামান এবং পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
এক পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আড়িয়ালখাঁর শাখা এবং সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশাল বিমানবন্দরটি। নদীর তীরে তীব্র ভাঙণের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বিমানবন্দর। ভাঙনের থেকে ৭৫ মিটার দূরে বিমানবন্দরের উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর।
তদন্ত প্রতিবেদনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নদীর ভাঙন মোকাবিলায় ভাঙনমুখে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য বরাবর ১০ হাজার ৩১০টি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এজন্য কোন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৫০০ মিটার এলাকায় ৮৬ হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হলে তীর রক্ষা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।
তাছাড়া সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন ভাঙন এলাকার জন্য প্রায় এক হাজার ২১২ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। এ কাজের জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা চলছে। এছাড়া নদীর ভাঙন প্রতিরোধে হাতে নেওয়া হয়েছে আরেকটি ড্রেজিং প্রকল্প।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বরিশাল বিমানবন্দরের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জিহাদ বলেন, ‘ঝুঁকি মোকাবেলার বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের কাছে নির্দেশনা এসেছে। আমরা আশাকরি খুব শিঘ্রই তিনি আমাদের নির্দেশনা দিবেন।
যেসব কারণে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে সীমানা প্রচীর এবং রানওয়ের যে সমস্যার কথা বলা হয়েছে তাও আশাকরী খুব শিঘ্রই সমাধান হবে। তবে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব স্যার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলেছেন। তারাও বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে নীতি নির্ধারকদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ‘গত ৩০ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডায়নের সময় দুটি গরুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের। এসময় বিমানের পাখার ধাক্কায় দুটি গুরুর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনার থেকে রক্ষা পায় বিমানের অর্ধ শতাধিক যাত্রী। মূলত এই ঘটনার পর পরই নড়েচড়ে বসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সারাদেশে বিমানবন্দরগুলো পরিদর্শনে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জানুয়ারি বরিশাল বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।
কেআর