ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বাবুগঞ্জে সাপের কামড়ে মৃত্যু যুবককে জীবিত করতে ঝাঁড়ফুক জ্বালানি সংকটে বন্ধের মুখে ভোলার ১২ কারখানা মেহেন্দিগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষা, অভিভাবকদের ক্ষোভ মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি কবরস্থান পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান  ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ যাত্রীর সবাই নিহত রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা, পিএস জনি পুলিশ হেফাজতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র  আইএমএফ ঋণের কিস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ দৌলতখানে জ্বালানি তেল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ভিক্ষুকের কাছে ১০০ টাকায় ওষুধ বিক্রি করায় বন্ধ করে দেয়া হলো ফার্মেসি
  • বলিউডে যেভাবে এলেন সংগ্রামী লতা

    বলিউডে যেভাবে এলেন সংগ্রামী লতা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাত্র পাঁচ বছর বয়সে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর! নেপথ্যের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, তিনি নিজেই হাজির হয়েছিলেন ক্যামেরার সামনে। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন গোয়ালিয়র ঘরানার একজন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা। তাঁর মিউজিক্যাল প্লেগুলোতে লতা প্রথম অভিনয় শুরু করেন।

    ১৯৪২ সাল,লতার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর। পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী লতার উপর। পরিবারের বন্ধু ‘নবযুগ চিত্রপট চলচ্চিত্র কম্পানি’র মালিক মাস্টার বিনায়ক তখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন মঙ্গেশকর পরিবারের পাশে।

    শৈশবের দিনগুলোতে মাঝেমধ্যে সিনেমায় গান করেছেন লতা তবে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে শিখিয়েছিলেন মাস্টার বিনায়ক। মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গান ‘খেলু সারি মানি হাউস ভারি’ চলচ্চিত্রের ফাইনাল কাট থেকে বাদ পড়ে যায়। তবু হতাশ হননি লতা।

    মাস্টার বিনায়ক তার চলচ্চিত্র ‘পেহলি মঙ্গলা-গৌর’ এ লতা মঙ্গেশকরের জন্য ছোট একটি চরিত্র বরাদ্দ করেন। এ চলচ্চিত্রে দাদা চান্দেকারের রচনায় গান ‘নাটালি চৈত্রাচি নাভালাল’-এ কণ্ঠ দেন তিনি। তখনও চলছে তার জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ। চলচ্চিত্রের জীবনকে কখনো আপন করে নিতে পারেননি তিনি। একদিন কাজ শেষে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলেন। মাকে জানালেন কৃত্রিম অভিনয়ের জগত তার আর ভালো লাগে না। উপায় নেই, সংসার চলছে লতার উপার্জনে।

    অবশেষে একটি মঙ্গলময় দিন এলো। ১৯৪৬ সালে বসন্ত যুগলকরের ‘আপ কি সেবা মে’ চলচ্চিত্রে ‘পা লাগু কার জোরি’ গানে কণ্ঠ দেন। বলিউডের মূলধারার ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের এটিই প্রথম গান। বিনায়ক মারা যাওয়ার পর গানের তালিম নেন গুলাম হায়দারের কাছ থেকে। গুলাম হায়দার হলেন লতার গুরু। তাঁর হাত ধরে লতার জীবনে সুযোগ এল ‘মজবুর’ (১৯৪৮) চলচ্চিত্রে ‘দিল মেরা তোড়া, মুঝে কাহি কা না ছোড়া’ গানটি গাওয়ার। এই গানেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রি নতুন করে চিনল লতাকে।

    শুরুর গল্পগুলো এমনই ছিল লতার। তারপর লতা একসময় মহীরুহ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন নিজ আঙিনা থেকে গোটা ভারতে। হাজার গানে কণ্ঠ দিয়ে আপ্লুত করেছেন মানুষকে। পেয়েছেন অসংখ্য স্বীকৃতি, এসেছে অসংখ্য পুরষ্কার ও উপাধি। পঞ্চাশের দশকেই গান করে ফেললেন নামিদামি সব সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে। পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে লতা গাইলেন ‘জিয়া বেকারার হ্যায়’, এই গান উতলা করে দিয়েছিলো শ্রোতামন। ১৯৫৫ সালে ‘মন দোলে মেরা তন দোলে’ দুলিয়েছিলো কোটি শ্রোতার হৃদয়। ৫৭-তে ‘আজারে পরদেশি’ গেয়ে যেন ডাক দিলেন দুনিয়ার সংগীত রসিকদের।

    ষাটের দশকে উপহার দিলেন ‘পিয়ার কিয়া তো ডারনা কিয়া’ বা ‘আজিব দাসতা হ্যায় ইয়ে’-এর মতো এখনো পর্যন্ত তুমুলভাবে বিখ্যাত সব গান। লতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি দশকেই উপহার দিয়েছে তুমুল হিট গান। চল্লিশের দশক থেকে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক সমানভাবে লতা মাতিয়েছেন সুরের মূর্ছনায়। আজ রবিবার সকালে থেমে গেল সে সুর।


    এমইউআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ