বরিশালে ফের বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে দেড় শতাধিক

বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমার আভাস মিললেও পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হাসপাতালের শয্যায় রোগীর চাপ আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সংক্রমণের ধারাবাহিকতা উদ্বেগ তৈরি করছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
গত আট দিনের পরিসংখ্যান বলছে, বরিশাল সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের আসা-যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। একদিকে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়ি ফিরছেন। তবে প্রতিদিনই নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় ডায়রিয়ার সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এমনটি বলার সুযোগ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আট দিনে মোট ১৪২ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩২ জন। এর মধ্যে ৪ জুন ১৩ জন ভর্তি ও ৪ জন ছাড়পত্র পান। ৫ জুন ভর্তি হন ২০ জন, ছাড়পত্র পান ২৩ জন। শনিবার ১৩ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং একই দিনে ১৩ জন হাসপাতাল ছাড়েন। রোববার ১৯ জন ভর্তি ও ১৭ জন ছাড়পত্র পান। সোমবার ২১ জন ভর্তি এবং ১৯ জন বাড়ি ফেরেন। মঙ্গলবার ১৮ জন ভর্তি ও ১৪ জন ছাড়পত্র পান। বুধবার ১৭ জন ভর্তি হলেও ২০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ২১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যদিও ছাড়পত্রের সংখ্যাও প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে, তবুও নতুন আক্রান্তের ধারাবাহিক উপস্থিতি ডায়রিয়ার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু নগরী নয়, বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আসছেন। ফলে বরিশাল সদর হাসপাতালই বর্তমানে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। রোগীর চাপ খুব বেশি নয়, তবে প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছেন। পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি জানান, আবহাওয়াগত কারণে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরম, আর্দ্র আবহাওয়া, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ডায়রিয়া বিস্তারের অন্যতম কারণ। সামান্য অসতর্কতাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিরাপদ পানি পান, খাবার ভালোভাবে সংরক্ষণ, খোলা খাবার পরিহার এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে ডায়রিয়ার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
বরিশালে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হাসপাতালের প্রতিদিনের ভর্তি তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ডায়রিয়ার ঝুঁকি এখনও কাটেনি, বরং সতর্ক থাকার সময় এখনই।
এইচকেআর