চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজ শিশু আবু হুরাইরার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একমাস পর শিশু আবু হুরাইরা (১০) এর বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আবু হুরাইরা তালতলা গ্রামের আব্দুল বারেকের একমাত্র সন্তান। সে চুয়াডাঙ্গার ভি,জে, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৯শে জানুয়ারি বিকালে সে নিখোঁজ হয়।
এ ঘটনায় ওইদিনই আবু হুরাইরার পিতা আব্দুল বারেক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু ছেলেকে না পেয়ে পরবর্তীতে ২৫শে জানুয়ারি ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে জানুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশে প্রাইভেট শিক্ষক রঞ্জুর বাড়িতে পড়তে যায় আবু হুরাইরা। কিন্তু যথাসময়ে বাড়িতে না ফেরায় সন্ধ্যার সময় প্রাইভেট শিক্ষক রঞ্জুর বাড়িতে তাকে খুঁজতে যান আবু হুরাইরার মা। ওই সময় রঞ্জুর মা তাকে জানান, রঞ্জু বাড়িতে না থাকায় আবু হুরাইরা স্কুল ব্যাগসহ বইপত্র রেখে বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে গেছে আর ফিরে আসে নাই। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ঘটনার রহস্য উদযাটনে নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই কাজ শুরু করে পুলিশ।
রবিবার (১৩ই ফেব্রুয়ারি) তালতলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিন (২৩)-কে সন্দেহজনকভাবে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশু আবু হুরায়রাকে হত্যা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে মোমিন। পরে তার দেখিয়ে দেওয়া স্থান, তালতলা গ্রামের কবরস্থানের বেলগাছের নিচে পুরাতন পাকা কবরের মধ্য হতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় গেঞ্জি দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় শিশু আবু হুরায়রার বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাজে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসীন (পিপিএম-বার), পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুখেন্দু বসু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইদুজ্জামান ও এসআই গোপাল চন্দ্র মন্ডলসহ অফিসার ফোর্স। পরবর্তীতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে মোমিন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, 'গত ২ বছর আগে এক ঈদের রাতে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন মোমিনসহ তার বন্ধুরা। এতে ক্ষিপ্ত হন আবু হুরাইরার বাবা আব্দুল বারেক। রাগে তিনি সেই সাউন্ড বক্সের টেবিলে লাথি মারেন। এতে সাউন্ড বক্সটির টেবিল ভেঙে যায়। অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়। এতে মোমিনের তিন হাজার টাকা ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় মোমিন মনে মনে ক্ষিপ্ত হন এবং প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন। আর এজন্য তিনি টার্গেট করেন আব্দুল বারেক এর ছেলে আবু হুরাইরাকে। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে আবু হুরাইরা খেলতে বের হয়। এ সময় মোমিন তাকে একা পেয়ে খরগোশের লোভ দেখায়। আবু হুরাইরাকে খরগোশ দিবে বলে তালতলা সরকারি কবরস্থানে নিয়ে যান। এরপর তাকে হাত-পা বেঁধে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর প্রথমে লাশ রেখে চলে যান। পরবর্তীতে রাত ৮ টার দিকে আবারও এসে লাশ পুঁতে রাখেন।'
এম.এ.আর.নয়ন/চুয়াডাঙ্গা
এইচকেআর