ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • নির্বাচন কমিশন গঠন

    দায়িত্ব পেতে আগ্রহ বেশি আমলাদের

    দায়িত্ব পেতে আগ্রহ বেশি আমলাদের
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং চার কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য যাদের নামের প্রস্তাব সার্চ কমিটিতে এসেছে, তাদের অনেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। এর মধ্যে সাবেক আমলার সংখ্যা বেশি। আবার তালিকার একটি বড় অংশ দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক। 

    আগ্রহীরা বলছেন, দায়িত্ব পেলে নিরপেক্ষতার সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। অনাগ্রহী কয়েকজন বলেছেন- নিজেকে যোগ্য মনে করেন না।
    পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটির কাছে ২১টি দল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি ৩১৫ জনের নাম প্রস্তাব করেছে। যাদের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। ১৫ বিচারক, ২৩ বিচারপতি, ২৬ আইনজীবীসহ বিচারাঙ্গনের ৬৪ জনের নাম রয়েছে। ৪৬ জন শিক্ষাবিদ, ২৭ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, ৯ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে তালিকায়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চার উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, তিন সাবেক নির্বাচন কমিশনারেরও নাম রয়েছে। সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেকেরই নাম এসেছে প্রস্তাবে।

    নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সাবেক সচিব জিল্লার রহমান। তিনি বলেছেন, চাকরিজীবনে রাষ্ট্রের জন্য অনেক কাজ করেছেন। মাঠ প্রশাসনে নির্বাচন পরিচালনার ১২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। চাকরি থেকে অবসরে গেলেও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেলে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে কাজ করবেন।

    তার মতো আরও বেশ কয়েকজন সাবেক আমলা, যাদের নাম তালিকায় রয়েছে, তারা নতুন নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পেতে চান।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। তিনি সমকালকে বলেছেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকার যখন তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেলে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করবেন।

    সার্চ কমিটিতে নাম আসা এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ সমকালকে বলেন, নির্বাচন কমিশনারের মতো পদে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা নিজের নিরপেক্ষতা বা স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকার অবস্থান ক্ষুণ্ণ করে। আবার অনাগ্রহ দেখানোও উচিত নয়। রাষ্ট্র নাগরিককে দায়িত্ব দিলে তা পালন করা কর্তব্য।

    ১৩ বছর আগে অবসরে যাওয়া হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আব্দুর রশীদ সমকালকে বলেন, তার বয়স ৮০'র বেশি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অবশ্যই জাতি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, যা সবারই প্রত্যাশা। শরীর, স্বাস্থ্য ও বয়স বিবেচনায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সাহসও পান না। সার্চ কমিটিতে কে বা কারা তার নাম দিয়েছেন, জানেন না।

    বিচারপতি রশীদ বলেন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। সারাবিশ্ব তাকিয়ে আছে আগামী নির্বাচনের দিকে।
    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী নিজের আগ্রহের কথা সরাসরি ব্যক্ত করেননি। তিনি সমকালকে বলেন, আমরা তো এক সময় নির্বাচন করিয়েছি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বস্বীকৃত। সুতরাং সে জায়গা থেকে নির্বাচন কমিশনে এখন দায়িত্ব পালন সাংঘর্ষিক বিষয়।

    সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর সিইসি ছাড়া রাষ্ট্রের অন্য কোনো পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ নেই। সাবেক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চূড়ান্ত তালিকায় নাম এলে দেখা যাবে। এখন মন্তব্য করতে চান না।
    অন্যদিকে সার্চ কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে নিজের নাম তালিকা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক। সংবাদমাধ্যমেও একই বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের পদের জন্য তিনি তার নাম প্রস্তাব করেননি। তালিকায় কেন তার নাম এলো, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। তাই নাম প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ই-মেইল করেছেন।

    নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেতে আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কীভাবে তার নাম এসেছে, জানেন না। এ নিয়ে তার প্রতিক্রিয়াও নেই।

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, যারা তাকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল মনে করেন, তাদের কেউ হয়তো সার্চ কমিটিতে তার নাম দিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনার হওয়ার মতো যোগ্যতা তার নেই বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। পরবর্তী নির্বাচন কমিশন কেমন হওয়া উচিত- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যোগ্য কমিশন দরকার। আশা করছেন, চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেমন কমিশন আসবে। সঠিক কমিশন না হলে সঠিক নির্বাচন হবে না।

    ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, একজন নিয়মিত ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসাই মূল লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার মতো সময়, ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি নেই। তবে আশা করি, একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তার নাম যেন তালিকায় রাখা না হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ তার নেই।


    এসএম
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ