পদ্মা সেতু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প - আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

জাতীয় সংসদে পদ্মা সেতুর ওপর সাধারণ আলোচনা করেছেন বাংলাদশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ- এমপি।
আজ বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে সাধারণ আলোচনায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত ১৪ বছরে বিভিন্ন খাতে যে সব উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে। তারমধ্যে অধিকাংশ উদ্যোগই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা প্রসূত, যা ইতোমধ্যে ‘শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চ শিক্ষা, কর্মবান্ধব কারিগরি শিক্ষা, শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, আশ্রয়ন প্রকল্প, শিক্ষা সহায়তা, সুনীল অর্থনীতি, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও পরিবেশ সংরক্ষণ, আমার গ্রাম আমার শহর, আমার বাড়ী আমার খামার, দারিদ্র দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা, সমুদ্র বিজয়, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপন। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইল ফলক রচিত হবে।
হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সফলতা আজ দেশে বিদেশে সবার কাছে স্বীকৃত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের এ ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল, গ্রামকে শহরে উন্নীতকরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১৪ বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতায় বাংলাদেশকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। তাঁর গতিশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বের জন্যই আজ আমরা বিশ্বপরিমন্ডলে একটি সম্মান জনক স্থানে অধিষ্ঠিত।
হাসানাত বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে বাংলাদেশের উন্নয়নে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেন। এগুলোর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, মেট্টোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হলো পদ্মা সেতু। পদ্মা - ব্রহ্মপুত্র - মেঘনা নদীর অববাহিকায় সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এবং অপর অংশ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একই সঙ্গে রেল ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে পিলারের উপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে এই স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখ পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ তম পিলারে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো পদ্মাসেতু। ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট সর্বশেষ সড়ক স্লাব বসানোর মধ্য দিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হয় পদ্মাসেতুর।
পদ্মা সেতুর কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশীদের আস্থা বাড়বে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যাত্রীদের অপেক্ষার ভোগান্তির চির অবসান হবে। সহজতর হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হ্রাস পাবে নৌ দুর্ঘটনা। কৃষিপণ্য সহজলভ্য হবে। নতুন নতুন শিল্পায়নের মাধ্যমে দক্ষিনাঞ্চলের জনগণের জীবন যাত্রার মান অনেক উন্নত হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ বাংলাদেশের অপশক্তিদের দোসরদের সমালোচনা করে বাবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিদেশে ষড়যন্ত্র করেছিল। যে কারণে বিশ্বব্যাংক ঋন দিতে অস্বীকার করেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সমগ্র বিশ্ববাসী আজ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এসময় আওয়ামী সরকারের সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এ সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আপনার মাধ্যমে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে দক্ষিনাঞ্চলের সকল জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করুন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন।
মন্ত্রী হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের জগণের আকুণ্ঠ সমর্থনে পর পর তৃতীয় মেয়াদে আমাদের সরকার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০৪১ সালের মধ্যে এ দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করা। যেখানে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি, আর উচ্চতর প্রবৃদ্ধি। প্রতিষ্ঠিত হবে অংশিদারিত্বমূলক গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় বিচার। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ দেশ পরিচিতি লাভ করেছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। আমরা সকলে মিলে সহযোগিতার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবো, ইনশাআল্লাহ।
এএজে