আলো ঝলমলে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ভেসেছে আলোর বন্যায়। সোমবার (১৩ জুন) সাড়ে ৫টার দিকে মাওয়া প্রান্তের ২০৭টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে ওঠে। এতে মাওয়া প্রান্তের সবক’টি ল্যাম্পপোস্টে এই প্রথম সব বাতি জ্বললো।
এর আগে, গত ৫ জুন বিকালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। ওইদিন সেতুর ১৪ নম্বর থেকে ১৯ নম্বর পিলারের মাঝামাঝিতে ২৪টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। এরপর ১১ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে সেতুর সব বাতি জ্বালানো হয়।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া সংযোগের মাধ্যমে এই প্রথম মাওয়া প্রান্তের ২০৭টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বললো। এর আগে, পরীক্ষামূলকভাবে সেতুতে জেনারেটরের মাধ্যমে আলো জ্বালানো হয়েছিল।
এদিকে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর বুকে ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট রয়েছে। আর দু’পাশের সংযোগ সড়কে রয়েছে আরও ২০০টি পোস্ট। গেলো বছরের ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট বসানো ও এরমধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। এরপর পুরো সেতুতে ক্যাবল টানা হয়। গেলো ২৪ মে প্রথমে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেতুতে সংযোগ দেয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা প্রান্তে ৪২ নম্বর পিয়ারে এ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের কাজ শেষ হয়। এরপর মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও সেতুতে সংযোগ প্রদান করে। সর্বসাকুল্যে ৩০ মে প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ করে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। ২৬ জুন সকাল থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচন হতে চলেছে।
এএজে