সিনেমায় বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ তথ্যমন্ত্রীর
টেলিভিশন মালিকদের সংগঠনের দুই সদস্যকে সাম্প্রতিক কৃতিত্বের জন্য সংবর্ধনা জানাল অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। মাছরাঙা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাটকোর কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. রুবানা হক সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
পরিবারের দুই সদস্যের এই গৌরবজনক অর্জনে অঞ্জন চৌধুরী ও রুবানা হককে সংবর্ধনা দিয়েছে অ্যাটকো। গতকাল রাতে দি ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শুরুতেই সংবর্ধিতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় অ্যাটকো পরিবারের সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেন, এশিয়ান টিভির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়ার পর মানুষের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমি সিনেমার মানুষ না হলেও সিনেমার দেখভাল করি? আমিও জানতাম না অঞ্জন চৌধুরী সিনেমা বানান। অঞ্জন চৌধুরীকে অনুরোধ করব আগামী এক বছরে তিনি যেন অন্তত আরও ৫টি সিনেমা প্রযোজনা করেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটা সিনেপ্লেক্স যেন তিনি নির্মাণ করেন। পাবনা থেকেই শুরু করবেন বলেই আশা করছি। তিনি বলেন, সিনেমা একটা শিল্প। সিনেমার খারাপ দিকটা কেটে গেছে। বন্ধ হওয়া অনেক সিনেমা হল পুনরায় চালু হচ্ছে। সিনেপ্লেক্সগুলো ব্যবসাসফল হচ্ছে। দেশে যদি আরও অন্তত ১০০টা সিনেপ্লেক্স হয়, আমাদের সিনেমা শিল্প আরও উন্নত হবে।’ আমরা ১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের জন্য। আমি চাই টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকরাও সিনেমা বানাতে এগিয়ে আসুক। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট সালমান এফ রহমানকেও সিনেমায় বিনিয়োগ করার অনুরোধ করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, যে দেশ গুণীর কদর করতে জানে না সে দেশে গুণী জন্মায় না। সবারই উচিত গুণীদের সম্মান করা। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সিনেমা হল নির্মাণে তথ্য মন্ত্রণালয় যেমন ১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে ঠিক তেমনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আমরা সারা দেশে ৯২টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি?
অঞ্জন চৌধুরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এই পুরস্কারটি পেয়েছি ‘বিশ্ব সুন্দরী’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক হিসেবে। এর আগে ‘মনপুরা’ সিনেমার জন্য পুরস্কার পেয়েছি। তার আগেও একটি পুরস্কার পেয়েছি। এই সংবর্ধনার আয়োজনের জন্য অ্যাটকোর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।
এমইউআর