গোমা সেতু নিয়ে জটিলতার অবসান

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার মধ্য দিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিতে নির্মাণাধীন গোমা সেতু নিয়ে সৃষ্ট সকল জটিলতার অবসান ঘটলো। ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্পর মধ্যে এটি একটি। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সেতুর নির্মাণে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ৪৪ ভাগ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর আপত্তিতে কাজ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকে।
সওজ বরিশালের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম আজাদ বলেন, একনেকের সভায় গোমা সেতু নির্মাণ সংশোধিত প্রকল্প তালিকাভুক্ত হয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নকশায় নদীপথ সচল রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএর দাবি অনুযায়ী সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় সেতুর মাঝ বরাবর উচ্চতা রাখা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ মিটার। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, বরিশাল-লক্ষ্মিপাশা-দুমকি জেলা সড়কের ১৪ কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত দুই লেনে সেতু নির্মিত হবে। দৈর্ঘ্য হবে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার।
সূত্র জানায়, ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩ বছর মেয়াদের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের জুনে। বিআইডব্লিউটিএ’র আপত্তির পর অনিশ্চয়তায় পড়েছিল প্রকল্পটি। পরে সংশোধিত প্রকল্প গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, প্রথম প্রকল্প অনুযায়ী মাঝ বরাবর সেতুর উচ্চতা রাখা হয়েছিল সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ৭ দশমিক ৮৬ মিটার।
পিলার স্থাপন সম্পন্নের পর বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি তুলে জানায়, এ উচ্চতায় রাঙ্গামাটি নদীতে নৌয়ান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য উচ্চতা প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ দশমিক ২ মিটার। তখন সওজ থেকে দাবি করা হয়। উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর চূড়ন্ত সম্মতিপত্র নিয়েই প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছিল। নতুন আপত্তিতে প্রকল্পটি ভেস্তে যাবে।
সওজ বরিশালের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খান জানান, বিআইডব্লিউটিএর দাবি অনুযায়ী সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর মাঝে উচ্চতা রাখা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ মিটার। এর জন্য নদীর মধ্যে দুটি পিলারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং গার্ডার নির্মাণে কংক্রিটের বদলে স্টিলের পাত ব্যবহার করা হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার সন্তান জাসদের যুগ্মসম্পাদক মো. মহসিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালীর দুমকী ও বাউফল উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। তিনি জানান, বিগত মহাজোট সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন- এমপির ডিও লেটারে রাঙ্গামাটি নদীতে সেতু অনুমোদিত হয়। বিআইডব্লিউটিএর আপত্তিতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
কেআর