সংসদ নির্বাচনে ইভিএম চায় না জাতীয় পার্টি

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার চায় না।
রোববার (১৯ জুন) ইভিএম যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়ে এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি।
বৈঠকের পর জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, রোববার সকালে তাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যেভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে, সেটার পক্ষেই তারা। ইভিএম ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।
চুন্নু বলেন, বৈঠকে ইসির কাছেও এ মতামত আমরা তুলে ধরেছি।
তাদের মতামত উপেক্ষা করেও ইভিএম ব্যবহার হলে নির্বাচন বর্জন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখা যাবে সেটা। তখনকার সিদ্ধান্ত তখন নেব আমরা।
ইভিএম যাচাই করার জন্য ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার ১৩টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি।
দলগুলো হলো- জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস।
এগুলোর মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ড. কামাল হোসের গণফোরাম ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বৈঠকে আসেনি।
২১ জুন অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যে ১৩ দল ইসিতে আসার আমন্ত্রণ পেয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল।
২৮ জুন অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যে ১৩ দল ইসিতে আসার আমন্ত্রণ পেয়েছে
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।
ইভিএম নিয়ে ইতোমধ্যে দেশ সেরা প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা ইভিএম দেখার পর বলেছেন, এ মেশিন নির্ভরযোগ্য।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় আকারে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে সবার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
ইসির হাতে বর্তমানে ১ লাখ ৫৪ হাজার ইভিএম রয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ আসনে ভোট করা যাবে। ৩০০ আসনে এ ভোটযন্ত্র ব্যবহার করতে হলে আরও তিন লাখের মতো মেশিনের প্রয়োজন।