দুই ছিনতাইকারীকে ধরিয়ে দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

দুই ছিনতাইকারীকে ধরে বাহবা পেলেও তার মোবাইল ফোনটি ফিরে পাননি এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার বিকালে বাসে করে রাজধানীর মিরপুর থেকে পুরান ঢাকায় নিজের ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ কারওয়ান বাজার এলাকায় বাসের জানালার বাইরে থেকে এক ছিনতাইকারী তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেয়।
তিনি পিছু ধাওয়া করে ধরে ফেলেন আরেক ছিনতাইকারীকে। পরে সহযোগীকেও ধরে ফেলেন ওই ছাত্রী।
তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তার মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান বিকেলে বলেন, থানায় দুজনকে (ছিনতাইকারী) ধরে দিলেও তিনি (ভুক্তভোগী) মামলা করতে রাজি হননি। পরে পুলিশ বাদী হয়ে ওই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মানবজমিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ওই তরুণী একটা গবেষণার কাজে মিরপুর চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে এক বন্ধুর সঙ্গে বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন। বাসে বসে উনি বোনের সঙ্গে কথা বলছিলেন, হঠাৎ জানালা থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক ছেলে তার ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনিও ছিনতাইকারীর পেছন পেছন ছুটতে ছুটতে কারওয়ান বাজারে মানবজমিনের গলিতে ঢুকে পড়েন। কিন্তু ছিনতাইকারীকে পাননি
তিনি বলেন, ফোন হারিয়ে মেয়েটি খুব কাঁদছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে কারওয়ান বাজারের আড়তের শ্রমিকদের কাছে কালো গেঞ্জি পরা ছিনতাইকারীর হদিস জানতে চান। অনেককে জিজ্ঞেস করেন ছিনতাইকারীর বিষয়ে। একপর্যায়ে সেখানে পার্ক করে রাখা একটি মোটরসাইকেলের ওপর বসে মেয়েটি চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। এ সময় প্রধান সড়কের (কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ) দিক থেকে লোকজন হই হই করে আরেক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করছিলেন। ওই ছিনতাইকারীও মানবজমিনের গলিতে ঢুকে পড়ে। হইচই শুনে ওই তরুণী পালাতে থাকা ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরে ফেলেন।
তিনি আরো বলেন, তখন আশপাশে থাকা লোকজন ছিনতাইকারীকে একচোট মারধর করে। মারধরের চোটে মাটিতে শুয়ে পড়া ছিনতাইকারীর বুকের ওপর বসে ফোন ফেরত চান ওই ছাত্রী। চড়-থাপ্পড় দিতে দিতে তরুণী বলতে থাকেন, তার ফোন ছিনতাইকারীও একই চক্রের সদস্য। একপর্যায়ে ধরা পড়া ছিনতাইকারী স্বীকার করেন, তারা সবাই একই চক্রের লোক। তার পকেট তল্লাশি করে একটি ফিচার ফোন পান উপস্থিত লোকজন। সেই ফোন দিয়ে নিজের দলের সদস্যদের ডেকে আনতে চাপ তৈরি করা হয় ওই ছিনতাইকারীকে। একপর্যায়ে ওই যুবক ফোন করতে সম্মত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জীবন জানান, ছিনতাইকারী ফোন করে জিজ্ঞেস করে ‘তুই কই?’ তখন ওপাশ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ‘কী মামা, কট খাইছস নাকি?’ কথোপকথনের একপর্যায়ে ধরা পড়া ছিনতাইকারীর সহযোগী কারওয়ান বাজারে ‘এরশাদ বিল্ডিং’ বলে পরিচিত ভবনটির সামনে আসছে বলে জানায়।
জীবন বলেন, ওই ছেলেটি কালো টি-শার্ট আর লুঙ্গি পরে আছে বলে আমরা জানতে পারি। পরে আমি ওই ছাত্রীসহ উপস্থিত জনতাকে বললাম, আমরা আগে একটু দূর থেকে দেখি সেখানে এরকম পোশাকের কেউ এসছে কি না। ছিনতাইকারীর কাছ থেকে পাওয়া ফোনটি ছিল সেই ছাত্রীর হাতেই। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি- কালো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরা একটা ছেলে দাঁড়িয়ে। মেয়েটি আগের নম্বরে ডায়াল করতেই ছেলেটার ফোন বেজে উঠলো। এরপরই আমরা গিয়ে তাকে ধরে ফেলি।
এএজে