ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহারের ব্যাংক হিসাব তলব উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের ২৪ দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকবে শ্রেণি কার্যক্রম ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে মৃত ভেবে শিশু ইরাকে ফেলে যান বাবু শেখ চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট অফিসে এসে ৪০ মিনিট বাধ্যতামূলক অবস্থান করতে হবে সরকারি কর্মচারীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ‘রাজত্ব’, এক সপ্তাহে ৪ জন নিহত   সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • ইয়াস: দখিনে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ঘরবাড়ি, ভেঙে গেছে দেড় কি. মি বাঁধ

    ইয়াস: দখিনে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ঘরবাড়ি, ভেঙে গেছে দেড় কি. মি বাঁধ
    ছবি সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এবং ‘পূর্ণিমা’র প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপকূলীয় বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি এবং মাছের ঘেরে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি ভেঙেছে অনেক বেড়িবাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভারে বিভিন্ন নদ-নদীর ১২টি পয়েন্টে মোট দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

    পাশাপাশি এক হাজারের অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি এবং প্রায় সাড়ে ১২ হাজার পুকুর ও ঘের ডুবে ৬৪ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ঘুণিঝড় এবং পূর্ণিমা’র জোয়ারের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে পানির চাপ বেড়েছে। এ কারণে নদ-নদীতে জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পানির চাপে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ছে।

    তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে পানি বৃদ্ধির ফলে বরগুনা জেলা সদরের ৪টি পয়েন্ট, বেতাগীতে একটি, পথরঘাটায় একটি ও আমতলীর একটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

    এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিজামপুরে ১টি ও ধুলাসারে একটি, দীপ জেলা ভোলার মনপুরায় একটিসহ মোট ১২টি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই ১২টি পয়েন্টে মোট দেড় কিলোমিটার বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

    অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না থাকায় এই অঞ্চলের কৃষকরা উদ্বিগ্ন ছিল। বৃষ্টির পানির পানির কারণে আউশ আবাদে চাষিরা উপকৃত হবে বলে আশাবাদী বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

    তবে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ইয়াস’ এবং ‘পূর্ণিমা’র প্রভাবে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের পুকুর, ঘের এবং বদ্ধজলাশয়ের মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভাগের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার পুকুর ও ঘের ডুবে গেছে। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পটুয়াখালী জেলাতেই ৫৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    অপরদিকে, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম জানিয়েছেন, ‘ঘুর্ণিঝড়ের পাশাপাশি পূর্ণিমা’র কারণে কীর্তনখোলা, নয়াভাঙ্গুলী, তেতুলিয়া, বিষখালী, বুড়িশ্বর, সুরমা-মেঘনা, আঁড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যাসহ বেশি কিছু নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে তেতুলিয়া নদীর পানি বিপদ সীমার সর্বোচ্চ ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

    বরিশাল বিভাগীয় সদর দপ্তরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশাল বিভাগের প্রায় এক হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তাছাড়া কাঁচা-পাকা রাস্তা, গাছপালা, পানের বরজ ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি পূর্ণাঙ্গ নিরূপনে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন এখনো কাজ করছেন। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।


    কে.আর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ