ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • মমতাময়ী মায়ের জন্য আজও কাদঁছে বরিশালবাসী

    মমতাময়ী মায়ের জন্য আজও কাদঁছে বরিশালবাসী
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে সাহান আরা বেগমের শিশু পুত্র সুকান্ত বাবু ঘাতকতের বুলেটে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়। সেদিন বুলেটে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও আরেক শিশু পুত্র, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বুকে জড়িয়ে কোনভাবে প্রানে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। 

    সেদিনকার কালো রাতের নিমর্ম বর্বরতার ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ জননী সাহান আরা বেগম আজ নেই । তার স্মৃতি বুকে জমা রেখে আজও কাদঁছে বরিশালবাসী । জননী সাহসিকা সাহান আরা তাঁর দৃঢ়চেতা মনোবলের কারণে বড় বড় বির্পযয়ের সময়ে ভেঙে পড়েননি। তিনি সকল বিপদ যেমন শক্ত হাতে সামলিয়েছেন তেমনি স্বামী, সন্তানকে ভালবাসার বাঁধনে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। 

    দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন ভরসার আশ্রয়স্থল। স্বামী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক, মন্ত্রী ও বরিশাল-১ আসনের সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে তিনি সবসময় তাঁর সকল কাজে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। ৯৬ পরবর্তী সময়ে তাঁকেও স্বামী সন্তানকে নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করতে হয়েছে। 

    কোনভাবেই মনোবল না হারিয়ে সকলকে নিয়ে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে সন্তানকে বুকের মধ্যে আগলে রেখে ছিলেন সেই ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে জীবদ্দশায় তিনি প্রতিষ্ঠিত দেখে গেছেন। সন্তান মেয়র হওয়ার পর একবারের জন্য তিনি ছেলের অফিস কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। মাকে নিজের চেয়ারে বসিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সেদিন কতোটাযে আনন্দিত হয়েছিলেন তা যারা চোখে দেখেননি তারা হয়তো অনুধাবনও করতে পারবেন না। 

    দলের দুঃসময়ে সাহান আরা দলীয় নেতাকর্মীদের অভিভাবকের ন্যায় সাহস জুগিয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি মৃত্যুর সময়কাল পর্যন্ত বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। রাজনীতিতে যেমন যুক্ত ছিলেন তেমনি ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। 

    সাহান আরা বেগম একজন সমাজসেবী ছিলেন। তাঁর কাছে গিয়ে সহায়তা পাননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একজন নারী হয়েও তিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। তিনি মৃত্যুকে ভয় পেতেন না। তিনি প্রায়শই বলতেন ৭৫ সালেই মরে যেতে পারতাম। তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাহস জুগিয়েছেন সবসময়।

    এই মমতাময়ী মায়ের আকস্মিক চলে যাওয়ায় দারুনভাবে ব্যথিত হয়েছেন বরিশালবাসী । উল্লেখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম সাহান আরা  আব্দুল্লাহ গত বছরের ৭ জুন  (রবিবার) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন । 
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ