ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ নাব্যতা সংকটে হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ! ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেফতার সরকারি হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: র‍্যাব মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মন্তব্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামে মামলা গরুর জাত ও ধরন অনুযায়ী মাংসের দাম নির্ধারণে আইনি নোটিশ বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই’ জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার গুঁড়িয়ে দিলো ইরান ১৮ মাসের কাজ গড়িয়েছে ৪৮ মাসে, তবুও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
  • প্রবাসী বাবার দাফন শেষে পরীক্ষাকেন্দ্রে মেহনাব

    প্রবাসী বাবার দাফন শেষে পরীক্ষাকেন্দ্রে মেহনাব
    বাবার মরদেহ কাঁধে করে কবরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দাখিল পরীক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সারারাত বাবার নিথর দেহের পাশে বসে কাটিয়েছেন। সকালে জানাজা ও দাফন শেষে পরীক্ষার কেন্দ্রে গেছেন দাখিল পরীক্ষার্থী মেহনাব হোসেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে।

     
    বুধবার (৩০ এপ্রিল) ছিল কৃষি বিজ্ঞান পরীক্ষা। মেহনাব পূর্ব খাজুরবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পরীক্ষাকেন্দ্র কালাইয়া কামিল মাদ্রাসা।
     
    এর আগের দিন মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মালদ্বীপ থেকে বাবা জসিম উদ্দিনের (৪৫) মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা জসিম উদ্দিন ছিলেন মালদ্বীপপ্রবাসী।
     
    মেহনাব জানান, ‘বাবাকে সবসময় ভিডিও কলে দেখতাম। তিনি বলেছিলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় বাড়ি ফিরবেন। বাবাকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তিনি ফিরেছেন লাশ হয়ে। আদর করতে পারলাম না।’
     

    স্বজনরা জানান, প্রায় সাত বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে মালদ্বীপে পাড়ি জমান জসিম উদ্দিন। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য স্বপ্ন বুনছিলেন। কথা ছিল এবার ঈদে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৪টার দিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মালদ্বীপের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
     
    জসিমের ছোট ভাই মো. মাহফুজ জানান, দেশে ব্যবসায় ক্ষতির পর ঋণে জর্জরিত হয়ে মালদ্বীপে যান জসিম। তার মৃত্যুতে পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
     
    নিহতের স্ত্রী মাসুমা আক্তার বলেন, ‘মেয়ে জারিন যখন ছোট, তখন ওর বাবা বিদেশে চলে যান। এখন বুঝ হওয়ার পরও বাবাকে সামনাসামনি দেখা হয়নি। ভিডিও কলে দেখত। এবার ঈদে বাবা আদর করবেন—এই স্বপ্নে ছিল। কিন্তু দেখা পেল শুধু নিথর দেহের।’
     
    জসিম উদ্দিন বড় ডালিমা গ্রামের মো. আলাউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজ। এক ছেলে মেহনাব ও এক মেয়ে জারিন (৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী) রয়েছে তার।
     
    নিহতের বৃদ্ধা মা বিবি আয়েশা (৭৫) সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ