ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

Motobad news

নির্বাচনি প্রচারে মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ

নির্বাচনি প্রচারে মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ
ফাইল ছবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থকদের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ মেনে চলতে হবে। অন্যথায় বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি পেতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন হচ্ছে কি না-তা দেখাশোনার জন্য নির্বাচনি মাঠে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। 

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সবাইকে অনুরোধ জানাব আচরণ বিধিমালা মেনে চলার জন্য। অন্যথায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং মোবাইল কোর্ট ব্যবস্থা নেবে। 

বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে। ফেস্টুন ও ব্যানার হবে পচনশীল। অর্থাৎ কাপড় বা চট ব্যবহার করা যাবে। রেক্সিন, পলিথিন বা পিভিসির ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। লিফলেট আর ব্যানারে থাকতে পারবে না প্রার্থী ও দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি। 

প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না হেলিকপ্টার। তবে রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলে শুধু তারাই হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন।

নির্বাচনি প্রচারে সব দল ও প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা অন্যান্য প্রচারাভিযানে বাধা দেওয়া যাবে না। প্রচারে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে বিলবোর্ডে প্রচার চালাতে পারবেন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড বসানো যাবে। 

এছাড়া কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এবার যানবাহন ব্যবহার করে প্রচার চালানোর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারে কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে মিছিল, জনসভা বা কোনো শোডাউন করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারে যানবাহন সহকারে বা যানবাহন ছাড়া কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না।

নির্বাচনি প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। আচরণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ইমেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করবেন। 

প্রার্থী তার প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার করতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা বা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারও চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনোরকম ক্ষতিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। 

ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমে প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও উলে­খ করা হয়েছে বিধিমালায়। একইভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না। সত্যতা যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কন্টেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করা যাবে না।

বিধিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য বা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন বা সুনাম নষ্টের উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদনা করে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো কন্টেন্ট বানানো যাবে না। 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন