ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

Motobad news

কাল শুরু হচ্ছে প্রচারণা, ভোটের লড়াইয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী

কাল শুরু হচ্ছে প্রচারণা, ভোটের লড়াইয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী
ফাইল ছবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এর ফলে প্রার্থীরা এগিয়ে যায় নির্বাচনের আরও এক ধাপ সামনে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা। আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নামছেন প্রায় ২ হাজার প্রার্থী। প্রচারণার সময়সীমা ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। বুধবার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের পাশে সংক্ষিপ্ত মিছিল করতে দেখা যায় দু-একটি দলকে। 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ইতোমধ্যে পোস্টার, লিফলেট ও গণসংযোগের প্রস্তুতি শেষ করছেন। সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা না হলেও সভা-সমাবেশ কিংবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন বিভিন্ন প্রার্থীরা।


ভোটের মাঠে লড়বেন প্রায় দুই হাজার প্রার্থী 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন ৩ হাজার ৪১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৫৮০ জন। এরপরে শুরু হয় দাবি-আপত্তি, যাচাই-বাছাই। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এরপর গত ১০ জানুয়ারি থেকে টানা ৯ দিনের আপিল-শুনানি শেষে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দল থেকে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। ফলে সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী ভোটের মাঠের লড়বেন। 

এদিকে সীমানা জটিলতার কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে পাবনা-১ ও ২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদিও পরে এই দুই আসনের নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। পরে এই দুই আসনে ৯ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। 

ইসি থেকে জানানো হয়, পাবনা ১ ও ২ আসনের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ জানুয়ারি, আপিল দায়ের ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ জানুয়ারি। এর ফলে ৩০০ আসনে প্রার্থী আরও বাড়বে।

শুরু হচ্ছে ভোটের প্রচারণা, মানতে হবে আচরণ বিধিমালা 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীরা ভোটের প্রচারণা শুরু করবেন। তবে এই প্রচারণার ক্ষেত্রে মানতে হবে আচরণ বিধিমালা। এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ। যদিও বেশিরভাগ প্রার্থীই তা অমান্য করেছেন। 

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই বলা হয়েছিল আচরণ বিধিমালা মানাতে প্রয়োজনে তারা কঠোর হবেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে তফসিল ঘোষণার আগে দলগুলোর উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, ‘ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে। অথচ আমরা পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। এগুলো সরাতে হবে। যারা লাগিয়েছেন সরিয়ে নিন; আমরা কঠোর হবো। এ সমস্ত ক্ষেত্রে উই উইল নট স্পেয়ার, আমরা ব্লাইন্ডলি উইল জাম্প ওভার দিস ভায়োলেশন। যখন তফসিল ঘোষণা হবে, তখন আমরা ঝাঁপিয়ে পড়বো।’

আবার তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচনি পোস্টার দেখা যায়। সে সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করেছি। আমাদের রিটার্নিং অফিসাররা এগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’ 

এদিকে বুধবার প্রতীক দেওয়ার আগে ঢাকা ১৫ ও ১৩-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে যেহেতু নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে, আমি আশা করবো আপনারা আচরণ বিধিমালা মেনে চলবেন। আপনারা আপনাদের কর্মীদেরও মেনে চলতে বলবেন। তারা যদি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে সেটার দায় কিন্তু প্রার্থীদের ওপর বর্তাবে।’

সংশোধিত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এবারের নতুন সংশোধনীতে। কোনও প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় যা করা যাবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ভোট চাওয়ার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে যা যা করতে পারবেন তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। 

জনসভা ও সমাবেশ

সভা-সমাবেশ আয়োজন করার আগে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জানাতে হবে। অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ এবং সময়-স্থান জানাতে হবে লিখিতভাবে। তবে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়ছে। সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে ইসি। 

পোস্টার-ফেস্টুন, বিলবোর্ড

নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে— যার দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি নয়। নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন থাকছে সাদা-কালো রঙে সীমাবদ্ধ। ব্যানারের ক্ষেত্রে আয়তনে অনধিক ১০ ফুট × ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল আয়তনে অনধিক A4 সাইজের (৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি × ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন আয়তনে অনধিক ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চিতে বেধে দেওয়া হয়েছে। 

ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধুমাত্র পোর্টেট আকারে।  

এছাড়া, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীরা শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনও প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হতে পারবে না। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার প্রার্থীরা, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে— তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। 

আসন্ন নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট কক্ষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। তবে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে হওয়ায় গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে সংস্থাটি। ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি— সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন