চীনে ‘সামরিক অভ্যুত্থানে’র গুঞ্জন, যা জানা যাচ্ছে

চীনের সেনাবাহিনীর দুই শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরুর ঘোষণার পর দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের গুঞ্জন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে ক্যু'র অভিযোগে দুই জেনারেলকে আটক করা হয়েছে। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কৌশলও হতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানো হচ্ছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি, চীনের সেনাবাহিনীতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপন পারমাণবিক তথ্য পাচারের অভিযোগে সম্প্রতি চীনের শীর্ষ দুই জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং আরেক শীর্ষ জেনারেল লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা পর সামাজিক মাধ্যমজুড়ে নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়। বিশেষ করে সামরিক অভ্যুত্থানের খবরে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া।
বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ঐ ঘটনার পর দুই জেনারেল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে সেনা সদস্যদের সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি হাজার হাজার সেনাকে নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে বলেও নানা তথ্য ছড়িয়েছে। এমনকি দুই জেনারেলকে আটক করার গুঞ্জনও উঠেছে। সেভ দ্য পার্টি, সেভ দ্য নেশন-স্লোগানের হ্যাশট্যাগ সামাজিক মাধ্যমজুড়ে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর শিরোনামেও এমনটাই ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে।
জেনারেল ঝাং ইউশিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ করে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি, এই তদন্ত এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন শি জিনপিং সেনাবাহিনী ঢেলে সাজাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের নির্বাহীকে পদচ্যুত বা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে চীনের অভ্যন্তরে আসলেই কী ঘটছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঝাং ইউশিয়া, লিউ ঝেনলি বা অন্য কোনও শীর্ষ কর্মকর্তা শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে সেনা একাট্টা করার চেষ্টা করেছেন এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের বরাতে দ্য কাস্পিয়ান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কৌশলও হতে পারে। যেখানে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানোর চেষ্টা চলছে। যা চীনের সামরিক নীতি ও নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝাংয়ের মতো অভিজ্ঞ অফিসার হারানো সেনাদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বে প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের উপর ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো বড় সামরিক সিদ্ধান্ত পুরোপুরি শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। তার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণ চীনা সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিগত প্রাধান্য বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঝুঁকি তৈরি করবে বলেও সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও এসব বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে পারমাণবিক গোপন তথ্য ফাঁসের কোন অভিযোগও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি বেইজিং। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতিরই অংশ।