হাসনাতের আসনে বিএনপির সমর্থন পেলেন জসিম

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বিএনপির সমর্থন যাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের দিকে। বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় দলটির নেতাকর্মীরা জসিম উদ্দিনের পক্ষে প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এই আসনে হাসনাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চারবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) লিভ টু আপিলে হেরে যাওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন।
ফলে ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম মুন্সী পরিবার থেকে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই। স্থানীয় ভোটারেরা বলছেন, শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় হাসনাত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জোটগত সমর্থন হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের দিকে ঝুঁকছেন। বাস্তবে এতে ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হিসেবে এ কে এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০৮ সালে তার সহধর্মিণী মাজেদা আহসান মুন্সী পরাজিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি হন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। বর্তমানে এই আসনে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এনসিপির মো. আবুল হাসনাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল করিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়ে হাসনাতকে সমর্থন দিয়েছেন। জামায়াতও এই আসনে হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থী দেয়নি।
দেবিদ্বারের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ৪০ বছর পর দেবিদ্বারের নির্বাচনে মুন্সী পরিবারের কোনো প্রার্থী নেই।
দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে এই পরিবার সক্রিয় ছিল। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি ঋণখেলাপির কারণে বাদ পড়ায় বর্তমানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এ অবস্থায় জোটগতভাবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে জসিম উদ্দিনের পক্ষে বিএনপির জোরালো সাংগঠনিক তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।
এইচকেআর