৩৬ হাজার ছাত্রকে ‘ছাত্রী’ বানালো বরিশাল শিক্ষা বোর্ড!

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের অসাবধানতায় বদলে গেছে ৩৬ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর “জেন্ডার”। এ সংখ্যক পুরুষ শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে লেখা হয়েছে “ফিমেল”। এমনকি ত্রুটিপূর্ণ সেই রেজিস্ট্রেশন কার্ডই বিতরণ করা হয়েছে কলেজগুলোতে।
এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর পূর্ব মুহুর্তে জেন্ডার ভুলে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা যেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন সেখানে ভুল সংশোধন করতে কলেজ এবং শিক্ষা বোর্ডে ছুটতে হচ্ছে।
যদিও বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, কম্পিউটার অপারেটরের অসাবধানতায় ঘটেছে এমন ভুল। যা নিজ খরচেই সংশোধন করে দিচ্ছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আর যাদের কারণে এতো বড় ত্রুটি ঘটেছে তাদেরকে শোকজও করা হয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ আগামী জুন মাসের মধ্যে। এবার বিভাগের ৬টি জেলা থেকে বরিশাল বোর্ডের অধিনে ৮১ হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। মূলত কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তির ৬ মাস পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের রেজিস্ট্রেশন করে থাকে।
এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর অন্তত একমাস পূর্বে প্রিন্ট দেওয়া হয় রেজিস্ট্রেশন। সেই অনুযায়ী গত দু’দিন পূর্বে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৮১ হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রিন্ট করেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ৪টি জেলার কলেজগুলোতে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হয়।
ঝালকাঠিসহ দুটি জেলার রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণকালে ধরা পড়ে পরীক্ষার্থীদের “জেন্ডার ত্রুটি”। যেখানে মোট পরীক্ষার্থীর ৩৬ সহস্রাধিক পুরুষ পরীক্ষার্থীকে মহিলা বা ফিমেল পরীক্ষার্থী বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুল ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীরা ছুটছেন কলেজে আর কলেজ কর্তৃপক্ষ ছুটছেন বোর্ড কর্মকর্তাদের কাছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পিউটার প্রোগ্রাম সেটিংসের কারণে এতো বড় ভুলটা হয়েছে। কম্পিউটর অপারেটরের অসাবধানতার কারণে এমটা হয়েছে। এজন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার আগেই ভুলটা ধরা পড়ায় এখন সমাধান করা সহজ হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের ভুল সংশোধন করে দিচ্ছি। এখানে শিক্ষার্থীদের হয়রানোর কোন সুযোগ নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলেই সমাধান হচ্ছে। গত রোববার থেকে এরই মধ্যে অনেকগুলো রেজিস্ট্রেশন সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। তবে এটা বড় কোন বিষয় নয় বলে জানান তিনি।
এইচকেআর