ববিতে শিক্ষকদের আন্দোলনের অবসান, শিগগিরই ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে চলা ১০ দিনের আন্দোলনের অবসান হতে যাচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথ তৈরি হওয়ায় শিগগিরই ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয় এবং পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে তারা পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ এপ্রিল মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আমরণ অনশন শুরু করেন। ২৩ ঘণ্টা অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি অনশন ভাঙেন। তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি।
২০ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়, যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস-পরীক্ষা। পরে ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায়।
চলমান সংকট নিরসনে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপাচার্যের কক্ষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশ্বাস পাওয়া গেছে। দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বন্ধ থাকা ক্লাস ও পরীক্ষা দ্রুত শুরু করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সমাধানে আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং সেখান থেকে সমাধান আসবে।
বৈঠক শেষে বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া যৌক্তিকভাবে সিন্ডিকেটে আলোচনা করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার আলোকে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি ইউজিসিতে পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এ সমঝোতায় স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা আশা করছেন, দ্রুত সংকটের স্থায়ী সমাধান হলে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সেশনজটের যে আশঙ্কা ছিল তা কমে আসবে।
এইচকেআর