বহিস্কৃত যুবদল নেতার নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পণ্ড, কয়েক শিক্ষক আহত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে একদল লোক এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
(১১ মে) সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চলমান মানববন্ধন কর্মসূচি চলকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে শোকজ করা হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনিয়ম ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ তুলে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। এসময় একদল লোক এসে কর্মসূচিতে হামলা চালায় এবং চেয়ার ভাঙচুর করে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ কারণে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বক্কর জানান, শিক্ষক কর্মকর্তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হঠাৎ করেই রিপন শরীফ ৮-১০টি মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় আহত হয়েছেন প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক, প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর আবুল বাশার খান, প্রফেসর ড. খোকন হোসেন, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, প্রফেসর ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, প্রফেসর ড. এম এইচ কাউসার ও প্রফেসর ড. তন্বী চন্দ।
আহত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প সেন্টারসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা শেষে বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফ বলেন, কিছু শিক্ষক তাদের পছন্দের ভিসি না হলে মব সৃষ্টি করেন। একটি চক্র এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, বর্তমান ভিসির বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন চলছিল। এসময় বিপরীত পক্ষের লোকজন এসে হামলা চালায় এবং চেয়ার ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুলিশ অবস্থান করতে পারে না, তাই বাইরে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন আছে।