ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

Motobad news

ভেকু মেশিনের ব্যাটারি চুরির অপবাদে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

ভেকু মেশিনের ব্যাটারি চুরির অপবাদে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে দুই যবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বোতলবুনিয়া গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে বুধবার রাতে অভিযোগ করেছেন বলে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী বায়েজিদ মোল্লার (২১) বাবা আব্দুর রব মোল্লা অভিযোগে পাঁচজনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করেছেন।

অভিযোগের বরাতে পুলিশ জানায়, ৩ জুন বায়েজিদ মোল্লাকে ভেকুর ব্যাটারি চুরির অভিযোগে বোতলবুনিয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যান স্থানীয় মনির গাইন, সুমন মোল্লার নেতৃত্বে কয়েক ব্যক্তি। পরে একটি বাগানে নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটাতে থাকে। এরপর তাকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়।

ঘটনার ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বায়েজিদ মোল্লার পাশাপাশি আরেক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাখা হয়। তাকে জড়িয়ে ধরে আছেন মধ্য বয়সী এক নারী। তবে ওই কিশোরের পরিচয় জানা যায়নি। তার পরিবার থানায় কোনো অভিযোগও করেনি।

ঘটনাটি নয় দিন আগের হলেও বৃহস্পতিবার সকালে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

নির্যাতনের শিকার বায়েজিদ মোল্লা বলেন, সেদিন আমি শ্বশুরবাড়ির সামনে বসা ছিলাম। এ সময় মনির গাইন ও সুমন মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে তুলে এমপির বাগানে নিয়ে যায়। আমাকে অন্যায়ভাবে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন ও মারধর করেছে। এতে আমি জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। আগের বিরোধের জের ধরে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।

বায়েজিদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা বলেন, নূর মোহাম্মদ, সুমন মোল্লা, মনির গাইন ও ইমরানসহ কয়েক ব্যক্তি মিলে আমার ছেলেকে ধরে নেয় এবং চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় আমার ছেলে গুরুতর আহত হয় এবং দুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল।

তিনি বলেন, আমি থানায় মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে সুমন মোল্লার মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে তার বড় ভাই রুবেল মোল্লাকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বায়েজিদ, মিরাজ ও আসলাম এই তিন যুবক মিলে এলাকায় একের পর এক মোবাইল ও বাসাবাড়িতে চুরি করেছে। এর আগেও কয়েকবার চুরি করেছে তারা। স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিল। এক রাত থানায় থাকার পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে ফের চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

এখন দেখছি, কে বা কারা ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে ওভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।

এ সময় সুমন মোল্লার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রুবেল মোল্লা বলেন, আমার সঙ্গেই বলেন। ও বাইরে ছিল, ঈদের আগে দেশে আসছে। ওর সঙ্গে কথা বলা লাগবে না।

সদর থানার এসআই কমল বড়াল বলেন, বুধবার রাতে অভিযোগ করেছেন আব্দুর রব মোল্লা। আমি ভিডিওটি দেখেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। আমি ওই এলাকাতেই আছি। তদন্ত চলছে। এইটা নিয়াই কাজ করতেছি। আসামিও গ্রেপ্তার হইতে পারে।

এটা তো মর্মান্তিক, একটা লোককে এইভাবে পিটাবে?

সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তদন্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন