ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

Motobad news

এসিড মামলার বাদীকে কটূক্তির অভিযোগ, পাথরঘাটার ওসি প্রত্যাহার

এসিড মামলার বাদীকে কটূক্তির অভিযোগ, পাথরঘাটার ওসি প্রত্যাহার
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও পুলিশ সুপারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এফ এম ফয়সাল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাথরঘাটা থানায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো।


বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে পাথরঘাটার বাসিন্দা ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা নামে এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও ওঠে ওসি এনামুল হকের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না ওসি এনামুল হক। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ‘মাল’ ও ‘ফেরাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় পাথরঘাটাবাসীর মধ্যে পুলিশের সেবার মান, আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন