ঢাকা শনিবার, ১৫ মে ২০২১

Motobad news

৪৫ বছর মস্তিষ্কের ভেতর ছিলো মর্টার শেল

৪৫ বছর মস্তিষ্কের ভেতর ছিলো মর্টার শেল

ডা. সাঈদ এনাম:  
 
মিসেস জাহানারা বেগম (ছদ্মনাম) যুদ্ধাহত একজন মহীয়সী সংগ্রামী নারী। তার স্বামী ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বামীকে যুদ্ধের ময়দানে সাহস যোগাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি। 


যুদ্ধের এক রাতে হঠাৎ তাদের বাড়ির আঙিনায় একটা মর্টারশেল এসে পড়ে। এতে স্বামী স্ত্রী দুজনে মারাত্মক আঘাত পান। 

জাহানারা বেগমের শরীরের কিছু অংশে কয়েকটি মর্টাল শেল বিঁধে যায়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় কিছু বের করা গিয়েছিল। কিছু শেল নাকি এখনও আছে। আজ ৪৫ বছর হয়ে গেলো সেই ইতিহাসের । পুরোনো ক্ষতস্থান গুলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন, যেনো স্বাধীন বাংলাদেশের একেকটা  মানচিত্র!  

জাহানারা বেগম আজ চেম্বারে এসছিলেন নতুন এক সমস্যা নিয়ে। সেটা হলো, মাঝেমধ্যে তিনি দু একটা উল্টোপাল্টা কথা বলে ফেলেন, মেজাজ চড়ে যায়। ভুলেও যান কখনো সখনো। কোথায় কী রেখেছেন বা কাকে কী বলেছেন কিছুটা অগোছালো হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা ও মাথা ঝিমুনিও হয়।

ডিটেইলস হিস্ট্রিতে তিনি আবছা মনে করতে পারলেন সেই রাতে মর্টারের শেলের একটা টুকরা সম্ভবত তার মাথায়ও আঘাত হেনেছিলো। আর তেমন কিছুই মনে করতে পারলেন না।

বর্তমান লক্ষণ এবং তার মাথায় মর্টার শেলের আঘাতের 'হিস্ট্রি' টা আমলে নিয়ে তাকে জরুরি একটা এক্স-রে অব স্কাল (X-Ray Skull) করতে বলি। টেলিফোনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বলে দেই যাতে পরীক্ষাটি অত্যন্ত যত্ন এবং সতর্কতার  সাথে হয়।

প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই তিনি এক্স-রে টি নিয়ে আসলেন চেম্বারে। আজ ডিজিটাল যুগ, মুহুর্তেই সব হয়ে যাচ্ছে। 

কৌতুহল নিয়ে চেম্বারের ভিউ বক্সে তার ব্রেইনের এক্সরে টিতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। যা সন্দেহ করেছিলাম তাই । ব্রেইনের মধ্যে ছোট একটি মর্টাল শেল ঢুকে বসে আসে সেই ৫০ বছর আগে। 

সিমটম ছাড়া ব্রেইনের ভিতর ধাতব জিনিস বসে থাকতে পারে? একি সম্ভব? হ্যা সম্ভব!

কখনো কখনো কোনোরূপ সিমটম ছাড়া এরকম শেল ব্রেইনের ভিতর বসে থাকতে পারে। অথচ ব্রেইনের ভিতর  আলপিনের অগ্রভাগের মতো সামান্য স্থান ও অতি গুরুত্বপূর্ণ। আঘাতে জীবন নাশ হয়ে যেতে পারে।

মহান আল্লাহর কী সৃষ্টি! 

বেশ বড় সড় একটা ধাতব টুকরো মিসেস জাহানারা বেগমের ব্রেইনে বাসা বেঁধে বসে আছে দীর্ঘকাল। 

রাব্বুল আ'লামীন এই মহীয়সী নারীর ভালো করুন, আমীন।

গভীর রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝা যায়, মহাকাশ আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, অথচ তার থেকেও  বেশী বিস্ময়কর সৃষ্টি মানুষের দেড় কেজি ওজনের ছোট এই ব্রেইন।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম 
ডিএমসি, কে-৫২

সহকারী অধ্যাপক সাইকিয়াট্রি। 

ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন।


টিএইচএ/