ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

Motobad news

মেয়র আইভীকে সমবেদনা জানালেন শামীম ওসমান

মেয়র আইভীকে সমবেদনা জানালেন শামীম ওসমান

সব রাজনৈতিক বৈরিতা পেছনে ফেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বাড়িতে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান।

বাড়িতে যাওয়ার আগে শামীম ওসমান এমপি মঙ্গলবার বিকালে শহরের মাসদাইর কবরস্থানে গিয়ে মরহুমা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।

গত ২৫ জুলাই মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগম মারা যান।

মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মেয়র আইভীর দেওভোগের বাড়ি ‘চুনকা কুঠিরে’ যান শামীম ওসমান। আইভীর বাড়িতে প্রবেশ করেই সেখানে আইভীর দুই ভাই ও বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান নগরপিতা খ্যাত আলী আহাম্মদ চুনকার দুই ছেলে আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও আলী রেজা রিপনকে সান্ত্বনা দেন।

এরপর চুনকা কুঠিরের বৈঠকখানায় আসেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও তার ছোটবোন। আইভীর পাশে বসে শামীম ওসমান বলেন, সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। চাচি (মমতাজ বেগম) খুব ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহওয়ালা ছিলেন। আমি চাচির জন্য দোয় করি। আমাদের উচিত সবাই সবার জন্য দোয়া করা। আমি ৯৬ সালে যখন এমপি হই, তখনে এই চুনকা সড়ক (প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকা) করে দেই। ওই সময় আমি এ এলাকায় আসলে চাচি (মমতাজ বেগম) আমাকে নিজ হাতে খাওয়াতেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন তার জন্য দোয়া করতে হবে আর এমনভাবে চলবে হবে যেন তাদের আত্মা শান্তি পায়। আমিও এতিম, আমি বুঝি এতিম হওয়াটা কত কষ্টের সেটা যেই বয়সেই হই না কেন।

শামীম ওসমানের সঙ্গে এ সময় সেখানে ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীসহ সিনিয়র নেতারা।

শামীম ওসমান বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসেন। এ সময় আইভী বলেন, আগামী শনিবার বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ আমাদের মসজিদে আপনারা আসবেন।

পরে শামীম ওসমান তার সঙ্গে সেখানে যাওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জানান, শনিবার চাচির মিলাদে আপনারা মাস্ক পরে নিয়ম মেনে এখানে আসবেন।

এর আগে কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেন, মৃত মানুষের কোনো পরিচয় নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমার এখানে আরও আগে আসা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। আজকে আপনাদের সবার দোয়ায় একটু ভালো অবস্থায় আছে। আমি প্রথমেই তার জন্য দোয়া চাচ্ছি।

শামীম ওসমান বলেন, আলী আহম্মদ চাচার সহধর্মিণীর কথা আমার মনে পড়ছে। আমি যখন ৯৬ সালে প্রথম এমপি হই জমির আহমেদ জমু ভাই আমাকে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে বললেন তাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটি আলী আহম্মদ চাচার নামে নামকরণ কর। আমি বললাম এটা আমাদের সৌভাগ্য। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেটার নামকরণ করি। তখন আমি আলী আহম্মদ চাচার বাসায় যাই। আলী আহাম্মদ চুনকা চাচার সহধর্মিণীও আমার মায়ের মতো। তিনি একজন মা সন্তানকে যেভাবে ভালোবাসে, সেভাবেই ভালোবাসা দিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। আমাদের তার জন্য দোয়া করা ছাড়া কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, আমি নিজের মায়ের জন্য যেভাবে দোয়া করি; এখানে যারা শুয়ে আছেন সবার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। যিনি চলে গেছেন তিনি আমার মায়ের মতো ছিলেন। আমরা তার সন্তান। তার বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আলী আহম্মদ চাচার ৫ জন ছেলেমেয়ে আছেন। এতিম হওয়া যে কত কষ্টের সেটা যে হারায় সে বুঝে, তা যেই বয়সেই হোক। বাবা-মা যখন চলে যায় তখনই বোঝা যায়। আমি নিজেও একজন এতিম। এতিমের যে কষ্ট এই কষ্ট আল্লাহ যেন তাদের সহ্য করার তৌফিক দান করেন। আমি তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাই। তারা যেন ওই পথে চলেন যেপথে চললে তাদের বাবা-মা যেন শান্তি পান। আমরা সবাই যেন এভাবে এবাদত করতে পারি যেন আমাদের পূর্বপুরুষরা শান্তি পায়।


এমবি