ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

Motobad news

চালুর পর থেকেই বিএনপি’র ‘করোনা হেল্প সেন্টারে’ ঝুলছে তালা

চালুর পর থেকেই বিএনপি’র ‘করোনা হেল্প সেন্টারে’ ঝুলছে তালা
চালুর পর থেকেই বিএনপি’র ‘করোনা হেল্প সেন্টারে’ ঝুলছে তালা

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণের সেবায় বরিশালে করোনা হেল্প সেন্টার চালু করে মহানগর বিএনপি। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের মুল ফটকে ঝুলছে জেলা বিএনপি’র করোনা হেল্প সেন্টার লেখা ব্যানার। গত ১৯ জুলাই ঢাকঢোল পিটিয়ে এ হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার।

কিন্তু হেল্প সেন্টার চালুর পর থেকেই বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের গেটে ঝুলছে ডাবল তালা। মানুষ সেবা নিতে এসে হেল্প সেন্টারের গেটে তালা ঝুলছে দেখে ফিরে যাচ্ছেন। এমনকি ব্যানারে সেবা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও নেই কোন হেল্প লাইন বা যোগাযোগের মোবাইল নম্বর।

ফলে করোনাকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি’র ‘করোনা হেল্প সেন্টার’ কে নিছক তামাশা বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তবে দলীয় কার্যালয়ের হেল্প সেন্টারে তালা ঝুললেও নেতাকর্মীদের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা কার্যক্রম চরছে বলে দাবি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘করোনাকালিন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর সহযোগিতায় সারাদেশে করোনা হেল্প সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই কার্যক্রমের আওতায় ঈদের পূর্বে ১৬ জুলাই দেশের ৪৫টি জেলায় হেল্প সেন্টার চালু করে দলটি। এর দুদিন পরে ১৯ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে ‘করোনা হেল্প সেন্টার’র চালু করে বরিশাল মহানগর বিএনপি। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এ সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জানান, ‘প্রাথমিকভাবে দশটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, মাক্স ও ওষুধসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নিয়ে করোনা রোগীদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা রয়েছে হেল্প সেন্টার থেকে অক্সিজেন সেবার পাশাপাশি জরুরি এ্যাম্বুলেন্স এবং অ্যাপের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জরুরি সেবা দেয়ার।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলানো দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘এই সেন্টার থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানের পাশাপাশি করোনা ভ্যাক্সিনের রিজেস্ট্রেশনের জন্য সহযোগিতা করা হয়। তবে ব্যানারটিতে রেজিস্ট্রেশন বা সেবা গ্রহণের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য কারোর নাম বা মোবাইল নম্বর উল্লেখ নেই।

নগরীর সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘বিএনপি’র হেল্প সেন্টার উদ্বোধনের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। অনেক মানুষ এসে কাউকে না পেয়ে চলে যাচ্ছে।

বিএনপি কার্যালয়ে করোনার সেবা নিতে আসা নগরীর দক্ষিণ সাগরদীর বাসিন্দা দিনমজুর শহিন মিয়া বলেন, ‘করোনাকালেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা মানুষের সাথে তামাশা শুরু করছে। হেল্প সেন্টার চালু করে গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখছে। জনগণের জন্য নয়, নিজেদের সহযোগিতার জন্যই মনে হচ্ছে তারা হেল্প সেন্টার চালু করেছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে আমাদের হেল্প সেন্টারের ব্যানার ঝুলছে সত্যি তবে আমরা আমাদের হেল্প সেন্টারটি এখনো চালু করিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতার মাধ্যমে এটি উদ্বোধন পরবর্তী সেবা কার্যক্রম চালু করবো। তবে মহানগর বিএনপি কি কারণে তাদের হেল্প সেন্টার বন্ধ রেখেছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।

অপরদিকে, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আমাদের হেল্প সেন্টারে তালা ঝুললেও করোনা রোগীদের সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা দলীয় নেতা-কর্মীরা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে চিকিৎসা বা সেবা প্রদানের জন্য আমাদের সরঞ্জামাদি সংকট রয়েছে। এগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমানে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে যা দলের কর্মীদের মাধ্যমে মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তারা এটা নিজেদের কাজে নাকি সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে সেটা নিশ্চিত নন তিনি।

দলীয় কার্যালয়ে হেল্প সেন্টার বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এটি কোন হাসপাতার বা ক্লিনিক নয় যে খোলা রাখতে হবে। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সেবা প্রদান করছি। তবে হেল্প সেন্টারটি খোলা রাখতে আমাদের কোন বাধা নেই। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিই বড় বাধা।

অপরদিকে, মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ‘করোনা হেল্প সেন্টার’ চালু করলেও খোঁজ নেই উত্তর জেলা বিএনপি’র। তারা কোন হেল্প সেন্টার চালু করেননি বলে স্বীকার করেছেন। তবে উত্তরের নেতারা নিজ নিজ উদ্যোগে করোনা রোগী এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সেবা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘উত্তর জেলার আওতায় ৫টি উপজেলা এবং ৩টি পৌরসভা ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে গৌরনদী এবং আগৈলঝাড়ায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। তবে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনিক বাধা আসছে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, ইতিপূর্বে আমি ৭০০ মানুষকে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। তারা আমাকে মাত্র এক ঘন্টা সময় দেয় এ সহায়তা প্রদানের জন্য। তাছাড়া উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খাঁ মুলাদী উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিজ নিজ উদ্যোগে সাহায্য সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা হেল্প সেন্টার বন্ধ থাকার বিষয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আমাদের হেল্প সেন্টারের কার্যক্রম চালু আছে। তবে করোনা পরিস্থিতি ঊর্ধ্বগতির বা মহানগরী করোনার হটস্পটের কারণে দলীয় কার্যালয়ের সেন্টারটি খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে তাদেরকে চিকিৎসকদের মোবাইল নম্বর দিয়ে দিচ্ছি পরামর্শ গ্রহণের জন্য। তাছাড়া অক্সিজেন সেবাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।


কেআর