ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

Motobad news

শরীরে করোনার উপস্থিতি সত্ত্বেও শনাক্ত হচ্ছেনা ৩০ শতাংশ! 

শরীরে করোনার উপস্থিতি সত্ত্বেও শনাক্ত হচ্ছেনা ৩০ শতাংশ! 
ফাইল ছবি

রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি আছে। কিন্তু পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় ফলাফল আসতে পারে নেগেটিভ! এরকম এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাদের মতে শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলেই যে পিসিআর ল্যাবে সেটা শনাক্ত হবে এরকম কোন সম্ভাবনা নেই। আর এই সম্ভাবনা না থাকার হার শতকরা ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে যে ভাইরাস রয়েছে তা শতকরা ৭০ শতাংশ শনাক্ত করতে পারছে আরটি-পিসিআর ল্যাব। তবে শনাক্ত এবং শনাক্ত না হওয়া সকল রোগীকেই দেওয়া হচ্ছে একই চিকিৎসা। এটি শুধু বরিশালের ক্ষেত্রেই নয়, সারা বিশ্বের একই চিত্র বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। আর এমন তথ্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবামেক) পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ ডা. এ.কে.এম আকবর কবীর।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাছুম আহমেদ মতবাদকে জানান, করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সত্তেও রেজাল্ট নেগেটিভ আসা সম্ভব। ভাইরাস আছে তারপরও ১০০ জনের মধ্যে ১০০ জনের সবারই যে পজিটিভ আসবে ব্যাপারটা এমন নয়। যাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি আছে আরটি-পিসিআর  পরীক্ষায় তাদের রোগ শনাক্তের হার শতকার ৭০ শতাংশ পজিটিভ এবং ৩০ শতাংশ নেগেটিভ শনাক্তের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ তাদের ভাইরাস শনাক্ত হয় না। এজন্য আমরা তাদেরকে দালিলিক প্রমানে করোনা পজিটিভ বলতে পারি না। তাদেরকে করোনা সাসপেক্টেড (সন্দেহ) ধরে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

যেসব রোগীর করোনা লক্ষণ আছে কিন্তু আরটি-পিসিআর ল্যাবে ভাইরাস শনাক্তের হার ৭০ শতাংশ হওয়ায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না সেসব রোগীর ভাইরাস শনাক্ত করার অন্য কোন উপায় আছে কিনা এমন প্রশ্নে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরেক দায়িত্বরত চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক শাহ মো. ফজলে রহমান খান মতবাদকে জানান, যেসকল রোগীর শরীরে জ্বর থাকে এবং নাকে কোন ধরনের ঘ্রান পায় না তাদের সবারই করোনা হয়েছে বলে ধারনা করি এবং আমাদের বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় আমরা এটা নিশ্চিত হয়েছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যাদের করোনা ভাইরাসের সব ধরনের লক্ষণ আছে কিন্তু আরটি-পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় ভাইরাস শনাক্ত হয়নি; তাদের এক্সরে ও সিটি স্ক্যান পরীক্ষা মাধ্যমে শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।

আরটি-পিসিআর ল্যাবের প্রধান ও শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ কে এম   আকবর কবীর জানান, করোনা উপসর্গের পরেও রেজাল্ট নেগেটিভ আসতে পারে। আবার ভ্যারিয়েন্টেরও একটা ব্যাপার আছে। যদি এমন ভ্যারিয়েন্ট হয় যেটা ধরা পরেনি সেগুলোর ক্ষেত্রেও নেগেটিভ আসতে পারে। রোগীর এক্সরে, সিটি স্ক্যান ও কিছু রক্তের টেস্ট আছে যেগুলোর মাধ্যমে ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যখন কোন রোগীর পরীক্ষা করার জন্য নমুনা নেয়া হয় সেই নমুনার ভিতর ওই রোগের জীবাণু থাকার সম্ভাবনা কত পার্সেন্ট তার উপর নির্ভর করে সেনসিটিভিটি। আমরা যত পরীক্ষা নিরীক্ষা করি তার মধ্যে ১০০ শতাংশ সেনসিটিভিটি খুব কমই আছে। আমাদের এটার সেনসিটিভিটি প্রায় ৭০ শতাংশ। অর্ধাৎ যে স্থান থেকে করোনার জীবাণু নেয়া হয় সেখানে জীবাণু থাকলে তা ধরা পরার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞ এই দুই চিকিৎসকের কথার সূত্র ধরে অনুসন্ধানেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এরকমই একজন রোগী বরিশাল নগরীর ব্যাপটিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা বাপ্পি মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, আমি ও ৫০ ঊর্ধ্ব মা-বাবাসহ পরিবারের ৩ জনের একসাথে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। একটানা ১১ দিন ১০১ ডিগ্রি জ্বর ছিল এবং নাকে কোন ধরনের ঘ্রানও পেতাম না, যার স্থায়ীত্ব ছিল দেড় মাস।

মা বাবার শ্বাস কষ্ট ছিল। এরকম করোনা উপসর্গ নিয়ে কদিন ভোগান্তির পর ২ মার্চ পরীক্ষা করে জানতে পারি মা-বাবার করোনা পজিটিভ কিন্তু আমার রেজাল্ট আসে নেগেটিভ। অথচ আমাদের তিন জনের একই উপসর্গ ছিল। তিন জনই এক সমস্যায় ভুগেছিলাম। বাবা-মায়ের সাথে ডাক্তাররা আমাকে করোনা রোগী হিসেবেই চিকিৎসা দিয়েছেন। একরকম চিকিৎসা নিয়ে আমরা তিনজনই সুস্থ হয়েছি।


এমইউআর