ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • বৃদ্ধের কান্না শুনে পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

    বৃদ্ধের কান্না শুনে পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঘড়ির কাঁটা বেলা একটা বেজে ১৭ মিনিটে। দোতলা থেকে নেমে গাড়িতে উঠে পড়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল। গাড়ির জানালার গ্লাস অর্ধেক খোলা। মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। কাজ শেষে মধ্যাহ্নভোজের উদ্দেশ্যে গন্তব্য সরকারি কোয়ার্টার।

    এ সময় ইউএনও কার্যালয় ভবনের নিচতলার প্রবেশপথে কান্নাকাটি করছিলেন বৃদ্ধ খন্দকার রুস্তম আলী (৭৮)। দুচোখের জল ছেড়ে দিয়ে বারবার বলছিলেন, ‘ছয় সদস্যের পরিবার। বাড়িতে খাবার নেই। পরিবার অনাহারে আছে। কী করব? কোথায় যাব?’


    বৃদ্ধ রুস্তমের এমন আর্তনাদ কানে পৌঁছায় ইউএনও বিতান কুমার মন্ডলের। ফোনে কথা বলা শেষ করে সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধের কাছে এগিয়ে এলেন। বৃদ্ধের আর্তনাদ শুনলেন মনোযোগসহকারে। তারপর গাড়ির ভেতরে রাখা ১১ পদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন বৃদ্ধের হাতে। বাড়ি যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভাড়াও দেন ইউএনও। এ সময় খাবার পেয়ে ইউএনওর জন্য দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন বৃদ্ধ।

    মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কুমারখালী উপজেলা চত্বরে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না তাসনীম ও ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    বৃদ্ধ খন্দকার রুস্তম আলী (৭৮) উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক আনসার সদস্য। তার পরিবারে স্ত্রী, কন্যা, নাতি-নাতনিসহ ছয় সদস্য আছেন।

    বৃদ্ধ খন্দকার রুস্তম আলী বলেন, আগে আনসার বাহিনীতে চাকরি করতাম। স্ট্রোক করে চিটাগাং পাহাড় থেকে পড়ে যাই। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এদিকে চাকরিতে আর যেতে পারিনি। দুটো ছেলে ছিল। তারা ঢাকায় কাজে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। স্ত্রী, কন্যা, নাতি-নাতনি নিয়ে পরিবারে ছয়জন সদস্য। কাম-কাজ নাই। কী খাব। এ কথা শুনে ইউএনও স্যার খাবার দিছেন। আল্লাহ তার ভালো করুক।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, মানুষ হিসেবে একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সহযোগিতা করেছি। এটা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ