ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news

সংস্কারের পর যমুনায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

 সংস্কারের পর যমুনায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা/ছবি সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সংস্কারের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। যেটা বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবনের অনুসন্ধান শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বর্তমান সরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা ছেড়ে গেলে সেটিকে সংস্কার করে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হবে।

এটি সংস্কার করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠন করতে যেখানে অন্তত ১৫১টি আসন প্রয়োজন, সেখানে বিএনপি দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের সমর্থন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে যাচ্ছে।

নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন- এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন নির্ধারণে কাজ শুরু করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল, কমিটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয়ে সুপারিশও জমা দেয়। মূলত গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়। তারা শেরেবাংলা নগরে দুটি স্থান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। একটি হচ্ছে- শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, আরেকটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চেয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে বেশি উপযোগী বলে মনে করে কমিটি। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছিল। পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে তা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ওইদিন সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ঢুকে পড়ে। এটিতে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসবাস করতেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর আবাসিক সুবিধা: যা আছে আইনে
প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান, গৃহভাড়া ভাতা, ইউটিলিটি বিল, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব ছাড়ার পর বাসভবনে থাকার সুযোগের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) ১৯৭৫’-এ। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সরকারি বাসভবন নির্ধারিত থাকবে, যা সরকারের ব্যয়ে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এই বাসভবনের আসবাবপত্র, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ রাষ্ট্রই বহন করবে।

প্রধানমন্ত্রী যদি সরকারি বাসভবনে না থেকে নিজের বাড়িতে বা সরকারি বাসভবনের বাইরে অন্য কোনো বাসভবনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি প্রতি মাসে এক লাখ টাকা গৃহভাড়া পাবেন। একই সঙ্গে ওই বাসভবন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদার উপযোগীভাবে সজ্জিত করা হবে এবং এর যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে।

বাসভবন যেখানেই হোক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সেবার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনযাপনের মৌলিক সেবাগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে কোনো খরচ বহনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সরকারি বাসভবনের বাইরে নিজের বাড়িতে বা অন্য কোনো বাসভবনে বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার বিধান রয়েছে। এ জন্য প্রতি বছর গৃহভাড়া ভাতার সমপরিমাণ তিন মাসের ভাড়া অর্থ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজের বাড়িতে বসবাস করেন এবং সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার জন্য আলাদা কোনো গার্ডশেড না থাকে, তবে সরকার প্রয়োজনে ওই বাড়িতে একটি অস্থায়ী গার্ডশেড নির্মাণ করতে পারবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনে দায়িত্ব ছাড়ার পরের সময়কাল সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে আইনে। দায়িত্ব ত্যাগ করার পরপরই পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবনে বসবাস করতে পারবেন এবং এই সময়ের জন্য তার ওপর কোনো ভাড়া বা ব্যয়ের দায় বর্তাবে না।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন