ঢাকা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news

ভাঙনের কবলে বরগুনার পর্যটনস্পট শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

ভাঙনের কবলে বরগুনার পর্যটনস্পট শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

নদীবেষ্টিত বরগুনা জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটনস্পট শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা এ সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সৈকত সংলগ্ন একটি বিস্তীর্ণ বনভূমি। তবে ভাঙনের কবলে পড়ে দিনদিন ছোট হয়ে যাচ্ছে নয়নাভিরাম এই পর্যটনস্পটটি। পাশাপাশি সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত ঝাউবাগানটিও রয়েছে বিলিন হওয়ার পথে। 


তবে সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান।

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত বরগুনার তালতলী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া নামক এলাকায় অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা খড়স্রোতা পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় এ সৈকতটির আয়তন প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার। তবে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের কবলে পড়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এখন বিলিন হওয়ার পথে। এছাড়াও ঢেউয়ের আঘাতে উপরে পড়ে বিলিন হয়েছে সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত বনের প্রায় ৬০ হাজার ঝাউগাছ। আর এ কারণেই দিনদিন এ সৈকতের নৈসর্গিক সৌন্দর্য কমতে থাকায় আকর্ষণ হারাচ্ছে পর্যটকরা। 

সরেজমিনে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে উপরে পড়ে আছে সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শতশত ঝাউগাছ। এমনকি সৈকতে নামার জন্য নির্মিত পাকা রাস্তাটিও ভেঙে পড়ে আছে। এছাড়াও সৈকতে আসা পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনের জন্য নেই তেমন কোনো ব্যবস্থা। 

তবে, সরকারিভাবে দুই কক্ষবিশিষ্ট সাম্পান নামে একটি ডাকবাংলো নির্মাণ করা হলেও সেখানে নেই কোনো খাবারের ব্যবস্থা। ফলে একদিকে যেমন ভাঙনের কবলে পড়ে সৈকতের সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অপরদিকে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। তবে ভাঙনরোধে কার্যকর ভূমিকা নিলে সৈকত এবং সংলগ্ন বনাঞ্চলটি রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘুরতে আসা বিভিন্ন পর্যটকদের। 

পরিবারের সঙ্গে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে এসে নাজনীন আক্তার নামে এক নারী পর্যটক বলেন, আমরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লগ দেখে এবং বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনে এখানে ঘুরতে এসেছি। তবে এসে দেখলাম, এখানকার পারিপার্শ্বিক সব অবস্থাই খারাপ। ভবিষ্যতেও যদি এমন অবস্থা থাকে, তাহলে আর কোনো পর্যটকই এখানে আসবে না। আমরাই তো মানুষকে নিরুৎসাহিত করব, যাতে কেউ শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে আর না আসেন। 

রুপালী ব্যাংক বরগুনা শাখায় কর্মরত মো. মাসুম পরিবার নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে এসে বলেন, এখানে এসে দেখেছি, বনের একটি বিশাল অংশ সাগরে বিলিন হয়ে গেছে, যার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। সৈকতে নামার জন্য যে রাস্তাটি করা হয়েছে, তাও ভেঙে গেছে। এছাড়াও পর্যটকরা এসে কোথাও একটু বসে বিশ্রাম নেয়ার জন্যও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সৈকতের যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানও যদি এগিয়ে আসে, তাহলে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এবং এর সঙ্গে থাকা বনের গাছও রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

ফাতিমা আক্তার নামে আরেক পর্যটক বলেন, আমি ২০১৯ সালে প্রথমবার এই সমুদ্র সৈকতে এসেছিলাম। তবে এবার এসে দেখলাম, ওই সময়ের থেকে এখন সমুদ্র সৈকতটি অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে। এছাড়াও আগের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল, তাও এখন নেই। বিগত সময়ে সৈকতের পাশে যে বনের গাছপালা ছিল এবং ভালো রাস্তাঘাট ছিল, তা দিনদিন এখন বিলুপ্তির পথে। এরকম চলতে থাকলে এখানে পর্যটকদের আসা কমে যাবে। আমি মনে করি, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতটি রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। 

ঘুরতে আসা আরেক পর্যটক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা বিগত সময়ে আরও দুইবার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে এসেছি। তখন এ সৈকতটি আরও বড় ছিল। বর্তমানে ভাঙনের কবলে পরে সৈকতটির সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় প্রচুর পর্যটক আসলেও এখন আর তেমন কেউ আসেন না। 

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউবন ভাঙন কবলিত হয়েছে এবং বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারও আমাদেরকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে জেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত থেকে ভাঙন এড়াতে আমরা জিও টিউব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি বাজেট চাহিদা তৈরি করে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই আশা করি, ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন