প্লাস্টিকের পট দিয়ে মাস্ক বানিয়ে হাম রোগীদের দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন

বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চিকিৎসা সেবার সর্বশেষ ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। যেখানে চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে কেনা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। বানানো হচ্ছে অট্রালিকা। অথচ নেই শিশুদের সামান্য টাকার অক্সিজেন মাস্ক। যে কারণে স্থানীয় উপায়ে প্ল্যাস্টিকের পট দিয়ে হেডমাস্ক বানিয়ে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে “হাম” আক্রান্ত মুমূর্ষু শিশুদের।
গত (০৪ এপ্রিল) শনিবার দুপুরে এমন চিত্র দেখা গেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডের হাম আইসোলেশন ইউনিটে। শিশুদের এমন উপায়ে ঝুঁকি নিয়ে অক্সিজেন দেয়ার চিত্র হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বজনদের মাঝে। তবে এমন পদ্ধতিতে শিশুদের চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। খুব দ্রুতই সংকট নিরসনের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানাগেছে, শেবাচিম হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে সংকট এবং সীমাবদ্ধতা দীর্ঘ বছরের। বিশেষ করে শয্যা সংকটের কারণে এক বেডে অন্তত ৩-৪ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিত্র এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার। তার মধ্যেই সামনে এলো অতি গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন মাস্ক সংকটের বিষয়টি।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, হাম আক্রান্ত কয়েকজন শিশুকে মাস্ক ছাড়াই বিশেষ উপায়ে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। গৃহস্থলিতে ব্যবহারের পট বিশেষভাবে কেটে শিশুর মাথাসহ ঢেকে দিয়ে ওপর অংশে ফুটে করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। সামনের অংশ গামছা বা কাপড় দিয়ে ঢাকা।
এমন পদ্ধতিতে শিশুদের অক্সিজেন দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলেন, অক্সিজেন দেয়ার সময় প্লাস্টিকের পটে শিশুর গলায় চাপ লেগে বিপদ ঘটতে পারে। কোটি কোটি টাকার মেশিন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়, অথচ এতো অল্প মূল্যের অক্সিজেন মাস্ক কেনার টাকা দিচ্ছে না সরকার।
এদিকে, এমন পদ্ধতিতে শিশুদের অক্সিজেন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিজেই স্বীকার করেছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি- যখন অতিমাত্রায় অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তখন হেডমাস্ক ব্যবহার করা হয়। এটা ঢাকায় আছে দেখেছি।
তিনি বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে হেডমাস্ক না থাকায় শিশু ওয়ার্ডের নার্সরা স্থানীয় উপায়ে হেডমাস্ক বানিয়ে শিশুদের অক্সিজেন দিচ্ছে। তবে এটা নিরাপদ নয়। এভাবে অক্সিজেন দিলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুর মৃত্যু হলেও তো বাহির থেকে বোঝা যাবে না। সুতরাং আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে কিছু হেডমাস্কের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান পরিচালক।