মায়ের গচ্ছিত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রেমিকাকে নিয়ে কিশোর চম্পট!

বরিশাল নগর এলাকায় মাত্র তিন মাসের প্রেম সম্পর্কের জেরে কিশোর-কিশোরী নিখোঁজ হওয়া এবং পরে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ৪ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়া কিশোর মেহেদী হাসান মুন্না (১৫) প্রবাসী মনিরুজ্জামানের ছেলে এবং কিশোরী বৃষ্টি (ছদ্মনাম) (১৬) একই ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের অভিযোগ, গত তিন-চার মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মুন্না তার মায়ের প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে। সর্বশেষ (৩ এপ্রিল) এক বন্ধুর মায়ের কাছে স্বর্ণ বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে রাত আড়াইটার দিকে বৃষ্টিকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
পরে তারা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং ৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর সকাল ১১টার দিকে তারা বরিশালের গৌরনদীতে মুন্নার খালার বাড়িতে যায়। এদিকে পরিবার ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-২৭২) করে। পরে গৌরনদীতে তাদের অবস্থানের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে, বৃষ্টির মা অভিযোগ করেন, মেয়েকে খুঁজতে মুন্নার বাড়িতে গেলে স্থানীয় রুবেল, শাকিলসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের দুজনকে মারধর করে বের করে দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরী বৃষ্টি পুলিশের কাছে জানায়, তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়নি, তবে কুয়াকাটায় যাওয়ার পথে বাসের মধ্যে বসে মুন্না তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে জোরপূর্বক হাত দেয়।
এ বিষয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিম হোসেন জানান, “উভয়েই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।” এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।